পুরনো সমস্যা আর নতুন লক্ষ্য নিয়ে লঙ্কাযাত্রা

নিগার সুলতানা জ্যোতির হাসিতে আত্মবিশ্বাসের জ্যোতি ঠিকরে বের হয়। তবে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়কের পাশে বসে থাকা যে দুজন কোচ হাসান তিলকরত্নে এবং নারী উইংয়ের প্রধান হাবিবুল বাশার, তাদের মুখে হাসি নেই। দুজনেরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্যারিয়ারে পাঁচ হাজারের ওপর রান, দেড়শর বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। সর্বোচ্চ স্তরে রান করাটা কতটা সহজ কিংবা কঠিন, সেটা তারা ভালো করেই জানেন। সে জন্যই বোধ হয় অধিনায়কের ব্যাটিং নিয়ে সমস্যার টোটকা সমাধানে আশ্বস্ত হতে পারছেন না।

এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি খেলতে আজ শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে বাংলাদশ নারী ক্রিকেট দল। অধিনায়ক জানিয়েছেন দলের খেলোয়াড়দের বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা, প্রস্তুতি সবই ভালো। কিন্তু ভালো হচ্ছে না ব্যাটিং, টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশ দলের যেটা সব সময়েরই সমস্যা। জ্যোতি নিজেও বললেন, ‘ব্যাটিং একটা দৃশ্যমান সমস্যা। আমরা সবাই মিলে এটা নিয়ে কাজ করছি। খেলোয়াড়দের মধ্যে দক্ষতার কোনো সমস্যা নেই। অনেক সময় হচ্ছে, অনেক সময় হচ্ছে না। কেউ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে করছে, বাকি ম্যাচে করতে পারছে না। এই ধারাবাহিকতাটা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এখন আসলে দেখার বিষয়, সেটাকে কতটা পারফরম্যান্সে প্রতিফলিত করতে পারব।’

কোচ তিলকরত্নে অন্তত মেনে নিচ্ছেন যে বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভালো নয়, যেটা তার স্বদেশি পুরুষ দলের কোচ অবশ্য তার জায়গায় মানতে চান না! নিজের দেশে ভিন্ন দেশের কোচ হয়ে যাওয়ার মিশনের আগে সাবেক এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘আমাদের প্রথমে মেনে নিতে হবে, আমরা সম্প্রতি ভালো ক্রিকেট খেলিনি। তবে আমার সে আত্মবিশ্বাস আছে যে তাদের মধ্যে সেই দক্ষতা ও সামর্থ্য আছে ভালো করার।  দলের সামর্থ্যে আমার আস্থা আছে।’

পুরনো সমস্যা যেমন আছে, দলে ফিরেছেন তেমনি দুই পুরনো মুখ জাহানারা আলম ও রুমানা আহমেদ। তাদের ফেরায় দলের অভিজ্ঞতা বাড়বে, সেই সঙ্গে বাড়বে ব্যাটিং গভীরতা; মনে করেন জ্যোতি, ‘অভিজ্ঞতা সব সময় কাজে লাগে। তারা দুজনই সর্বশেষ দুটি এশিয়া কাপে খেলেছেন। দুজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আমার মনে হয় দলে অনেক বড় প্রভাব ফেলবে। এতে দলের জন্য সুবিধা হবে।’

বাংলাদেশ আছে এবারের এশিয়া কাপের বি গ্রুপে, যেখানে আরও আছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড। দাম্বুলায় ২০ জুলাই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ অভিযান। ২২ জুলাই থাইল্যান্ড ও ২৪ জুলাই মালয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলবেন জ্যোতিরা। গ্রুপের শীর্ষ দুই দল যাবে সেমিফাইনালে। জ্যোতির লক্ষ্য আপাতত সেমিফাইনালে ওঠা। এরপর ২৮ জুলাই ফাইনালের দিকে তাকানো যাবে।