ছেলের প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও বাঁচাতে পারলেন না মা

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের শিবালয়ে প্রতিপক্ষের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. রাকিব মোল্লাকে বাঁচাতে পারেননি মা। হামলায় আহতের ৮দিন পর আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় আধিপ্রত্য বিস্তার নিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা দাবি জানান এলাকাবাসী।

নিহত রাকিব উপজেলার দশচিড়া গ্রামের সাইদুর রহমান লাভলুর ছেলে। তিনি উলাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৭ জুলাই সন্ধ্যায় দশচিড়া খেলার মাঠ এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন রাকিবসহ তিনজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুজন পালিয়ে গেলেও এলোপাতাড়ি কোপে আহত হন রাকিব। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।

রাকিবের মা হাসি বেগম জানান, সেদিন কলেজ থেকে বাসায় ফেরার পথে রাকিবকে ফাঁকা রাস্তায় আক্রমণ করে ওরা। তখন সে সুস্থভাবে বাসায় ফিরে আসে। পরবর্তীতে রাকিব যখন মাঠে খেলা করতে যায় সন্ত্রাসীরা ১০-১২ জন তাকে দেশীয় অস্ত্র ও রড দিয়ে নৃশংসভাবে হামলা চালায়।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে এলোপাথারিভাবে আঘাত করছিল। তখন আমি তাদের কাছে প্রাণভিক্ষা চাই। তারা আমার ছেলেকে প্রাণ ভিক্ষা দেয়নি। আমার সামনেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে।

হাসি বেগম আরও বলেন, এক পর্যায়ে আমার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য সিএনজি নিয়ে হাসপাতালের দিকে রওনা দেই। কিন্তু সন্ত্রাসীরা পুনরায় সিএনজি আটকে রাখে। হাসপাতালে যেতে বাধা দেয়। তখন বিকল্প পথে আমার ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। আমার ছেলে এখন আর দুনিয়াতে নাই। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের হামলাকারীদের ফাঁসি চাই।

নিহত রাকিবের চাচাতো ভাই আসিফ অভিযোগ করেন, শরীফ, মামুন, শাহজাহান, আবু তালেব, মিজান, নজরুল, নরুজ্জামান, আয়নাল, হারেজ, মোতালেব মেম্বার, মনোয়ার, জসিমসহ কয়েকজন এ হামলা চালিয়েছে। রাকিবের এমন মৃত্যুতে আসামিদের গ্রেপ্তারসহ ফাঁসির দাবি জানান তিনি।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ সরকার বলেন, এ বিষয়ে এখনও কেউ অভিযোগ দেওয়া হয়নি। হামলা এবং মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ হলে আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।