রিয়ালের জন্য জীবন বাজি এমবাপ্পের

সান্তিয়াগো বার্নাব্যু, রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠটি যেন পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। ৮০ হাজারের বেশি রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকের উপস্থিতিতে তিল ধারণের জায়গাটুকু আর অবশিষ্ট ছিল না গ্যালারিতে। এত মানুষের এক হওয়ার উদ্দেশ্য একটিই ক্লাবটির আসছে দিনের মহাতারকা বনতে যাওয়া ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে বরণ করে নেওয়া। অনেক বছর ধরে চেষ্টার পর অবশেষে রিয়ালের একজন হয়ে উঠলেন এমবাপ্পে।

ইউরোপের সেরা ক্লাব হিসেবে ১৫টি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতা নিয়ে নির্মিত বিশেষ ভিডিও এবং গ্রেটেস্ট মোমেন্ট নামে এমবাপ্পের গোলসহ আরও একটি ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয় এমবাপ্পেকে। ক্লাবটির কিংবদন্তি খেলোয়াড় এবং বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে মঞ্চে আসেন রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। ইউরো জয়ের জন্য গর্ব প্রকাশ ও স্পেন জাতীয় দলকে অভিনন্দন জানিয়ে পেরেজ বলেন, ‘প্রিয় মাদ্রিদিস্তারা, আমাদের এই প্রিয় মাঠে, বিশ্ব ফুটবলের এই মন্দিরে, যেখানে আমরা যা সেই গল্প লেখা হয়েছে, এখানে জড়ো হয়েছি একজন নতুন রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়কে পরিচয় করিয়ে দিতে। আমরা এমন একজন ব্যতিক্রমী খেলোয়াড়কে স্বাগত জানাতে চাই যিনি আমাদের জয়ের ধারাটিকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে এসেছেন। আমরা রিয়াল মাদ্রিদে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে স্বাগত জানাই। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে পেরেজ ১৫টি ইউরোপিয়ান কাপ জয়ী রিয়ালের ‘৯’ নম্বর জার্সিটি তুলে দেন এমবাপ্পেকে। 

ছোটবেলা থেকেই এমবাপ্পের কাছে রিয়াল মাদ্রিদে খেলা ছিল স্বপ্নের মতো। রিয়ালের জার্সি পরে মঞ্চে এসে যখন দাঁড়ান তখন বোঝা যাচ্ছিল খুব আবেগি হয়ে আছেন তিনি। এমবাপ্পেকে নিজেদের একজন করে নেওয়ার পর পেরেজ বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা ও আবেগের জন্য আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। ১৩ বছর বয়সে জিজুর (জিনেদিন জিদান) আমন্ত্রণে যখন প্রথম এই স্টেডিয়ামে এসেছিলেন তখনই চোখে আবেগ জ্বলজ্বলে ছিল। আজ আপনি এখানে কারণ এটাই আপনার চাওয়া ছিল।’ রিয়াল কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানও জড়িয়ে ধরেন স্বদেশি অনুজকে। রিয়ালের অন্য কিংবদন্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সান্তামারিয়া, রাউল, সোলারি এবং আরবেলোয়া। এমন স্বাগতমে আপ্লুত হন এমবাপ্পেও।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর উত্তর দিকে নির্মিত মঞ্চে এসে এমবাপ্পে যখন দাঁড়ান তার পেছনে সাজানো ১৫টি ইউরোপিয়ান কাপ (চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) সাক্ষ্য দিচ্ছে রিয়ালের ঐতিহ্যের। নতুন নাম্বার নাইন বলেন, ‘এই দিনটা আমার জন্য অবিস্মরণীয়। ফ্লোরেনতিনো পেরেজকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। রিয়াল মাদ্রিদ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্লাব। আমি জিততে চাই। আমি এই ক্লাবের গৌরবময় ইতিহাসের অংশ হতে চাই। আমি সুখী, আমি সত্যিই সুখী। এখানে আসতে পেরে অবাস্তব মনে হচ্ছে। আমি বহু বছর রিয়াল মাদ্রিদের স্বপ্ন দেখেছি। আর আজ সেই স্বপ্ন এখন সত্যি।’

এমবাপ্পে যোগ করেন, ‘আমার পরিবারও খুশি, আমি আমার মায়ের চোখে জল দেখতে পাচ্ছি। ছোটবেলা থেকেই আমি মাদ্রিদিস্তাদের ভালোবাসা ও আবেগ বুঝতে পারতাম। এখন আমার স্বপ্নও ক্লাবের ঐতিহ্যের সঙ্গে এক হয়ে গেল। আমি এখন ক্লাবের আশার প্রতিফলন ঘটাতে চাই, পৃথিবীর সেরা ক্লাবটির। আমি রিয়াল মাদ্রিদ ও এই লোগোটির জন্য জীবন দিয়ে দিতে প্রস্তুত।’ এই বলে জার্সিতে অঙ্কিত লোগোটিকে চুমু খান এমবাপ্পে।

মঞ্চের আয়োজন শেষ করার আগে গ্যালারির সব সমর্থককে একসঙ্গে নিয়ে ‘হালা মাদ্রিদ’ সেøাগান দেন এমবাপ্পে। এরপর সমর্থকদের কাছে গিয়ে হাত মেলান। সবশেষে নিজের সই করা বেশ কিছু ফুটবল লাথি মেরে ভক্তদের উদ্দেশে পাঠান। এ সময় স্বপ্নপূরণের আনন্দে পুরোটা সময়ই আবেগি ছিলেন এমবাপ্পে।