শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলনের ফলে গত বুধবার থেকে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। শুধু চালু ছিল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় ব্রডব্যান্ড সেবাও। এর সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় ইন্টারনেটনির্ভর প্রযুক্তি সফটওয়্যার খাত। ইন্টারনেটনির্ভর সফটওয়্যার রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে প্রতিদিন দেশে সফটওয়্যার খাতে লোকসান হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা। সফটওয়্যার খাতের সংগঠন বেসিসের সভাপতি রাসেল টি আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চলমান সহিংসতার কারণে আগুনে পুড়ে গিয়েছে মহাখালীর ৩টি ডেটা সেন্টার। যার ওপর নির্ভর করে দেশের ৬০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ। আগুন দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই দেশ জুড়ে বন্ধ হয়ে যায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দেশের ১৩ কোটি গ্রাহক। রাসেল টি আহমেদ আরও জানান, আমাদের দেশের সফটওয়্যার খাতে যারা কাজ করেন তাদের অধিকাংশের ক্লায়েন্ট বিদেশি। ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তাদের যে কাজ রয়েছে তার কোনো আপডেট তারা দিতে পারছেন না। এর ফলে এসব ক্লায়েন্টের সঙ্গে ভবিষ্যতে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে। যত দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে ক্ষতির পরিমাণ তত বাড়বে। এ ছাড়া আমাদের নিশ্চিত ক্লায়েন্ট হারানোর শঙ্কাও তৈরি হবে। কারণ বিশ্ব এখন উন্মুক্ত। ক্লায়েন্ট আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে না। ক্লায়েন্ট যেখানে সুযোগ পাবে সেখানেই চলে যাবে।
সফটওয়্যার খাতের ব্যবসায়ীরা জানান, দ্রুতই ইন্টারনেট সেবা সচল করে দিতে হবে। ইন্টারনেট সেবা সচল করতে আমাদের যত বেশি সময় লাগবে তত বেশি ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে। আর এভাবে আর্থিক ক্ষতি হতে থাকলে প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ আমাদের পুরো কাঠামো টিকে আছে আর্থিক খাতের ওপর। কর্মীদের বেতন, অফিস ভাড়া, অন্যান্য সব কিছু নির্ভর করে সফটওয়্যার রপ্তানির ওপর।