স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহারে যেসব ঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা নিয়ে সতর্কবার্ত দিয়েছে জাতিসংঘ। ২০২৩ গ্লোবাল এডুকেশন মনিটর শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। এর পাশাপাশি তাদের প্রাইভেসিও ঝুঁকির মুখে পড়বে। স্কুলে কেবল এমন প্রযুক্তি থাকা উচিত, যা শেখার বিষয়টি সমর্থন করে। এই প্রতিবেদনের প্রতিবেদক মানস অ্যান্টনিনিস বলেন, শিক্ষার্থীদের একেবারে প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে সরিয়ে নেওয়া ঠিক হবে না। তবে কী ধরনের প্রযুক্তি স্কুলে অনুমোদন দেওয়া উচিত তা নিয়ে বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আরও ভালো গাইডলাইন থাকা উচিত। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ করার কারণে সেখানে পড়াশোনা আরও ভালো হয়েছে।
জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও শিল্পবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো বলেছে, মোবাইল ডিভাইস শিক্ষার্থীদের মনোসংযোগ ব্যাহত করে, প্রাইভেসি ঝুঁকিতে ফেলে ও পরবর্তী সময় এ কারণে সাইবার বুলিংয়ের মতো ঘটনা ঘটারও ঝুঁকি বাড়ে। গড় হিসেবে প্রতি চারটি দেশের মধ্যে একটিরও কম জায়গায় স্কুলে ফোন নিষিদ্ধ করার মতো আইন রয়েছে এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সাধারণত প্রধান শিক্ষকরা এই নিয়ম জারি করলেও দেশটির বেশিরভাগ স্কুলেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। ২০২১ সালে ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোয় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী গ্যাভিন উইলিয়ামসন। স্কুলে মোবাইল আনার অনুমোদন দিলে বিভিন্ন ঝুঁকি থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অরাজক অবস্থা, বুলিং ও নিপীড়নের মতো বিষয়টি। এমনকি এটি শেখার জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত বা নিষিদ্ধ করার বিষয়টি প্রধান শিক্ষকদের বিবেচনায় থাকা উচিত। যদিও কেউ কেউ যুক্তি দেখিয়েছেন, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য মোবাইল ফোন থাকা ভালো। আর বাড়িতে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিষয়টি বাড়াবাড়ি হিসেবে আখ্যা দেন তারা। শিক্ষক ও ছাত্র উভয়ের জন্য ফোন ক্লাসে ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে ফ্রান্স। তবে বিশেষ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বা শেখানোর মাধ্যম হিসেবে স্মার্টফোন ব্যবহার। আগামী বছর থেকে মাধ্যমিক স্কুলগুলোর ক্লাসরুমে মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট ও স্মার্টওয়াচ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা সিদ্ধান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেদারল্যান্ডস।