সাধারণ ছুটির কারণে টানা তিনদিন বন্ধের পর গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলো আজ বুধবার (২৪ জুলাই) খুলেছে। প্রতিদিনের ন্যায় পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে সকালে কারখানায় যান। শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে কারখানাগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শুক্রবার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো গাজীপুরে ব্যাপক সহিংসতা হয়। পরে রবিবার থেকে তিনদিন সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সেজন্য গাজীপুরের পোশাক কারখানাসহ সকল কলকারখানা বন্ধ থাকে। কলকারখানা বন্ধ থাকার পর শ্রমিকরা বাসাবাড়িতে অবস্থান করে।
গাজীপুর আলেমা টেক্সটাইলের পোশাক শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার কারখানার বেতন প্রদান করে। মোবাইল ফোনে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আসলেও শনিবার থেকে ইন্টারটে বন্ধ থাকায় টাকা তুলতে পারিনি। এজন্য নিজের বাজার খাওয়ার টাকাও ছিল না। দিতে পারি নাই বাসা ভাড়ার টাকা। এখন স্বাভাবিক পরিস্থতি হওয়ায় আশা করছি অর্থ কষ্ট দূর হবে।
আলেমা টেক্সটাইলের শ্রমিক কামাল হোসেন বলেন, বাসায় ইন্টারনেট না থাকায় তিনদিন অলস সময় পার করেছি। বাসায় শুয়ে বসে থাকতে থাকতে অসহ্য লাগছিল। কারখানা খোলায় ভাল লাগছে।
গাজীপুরে প্রিন্ট নেটওয়ার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাসান সোহেল বলেন, বুধবার সকালে কারখানা খুললেও হাতে তেমন কাজ নেই। নতুন কোনো অর্ডারও নেই। নতুন অর্ডার পাওয়ার পর স্বাভাবিক উৎপাদনে যেতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, করোনার সময় সারা বিশ্ব দূর্যোগ ছিল। এর প্রভাব সারা পৃথিবীতেই পড়েছে। এবার বেশ কিছু দিন ধরে আমরা বিশ্বের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক অর্ডার বাতিল হয়ে গেছে। কারো সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারিনি। সময় মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারায় ক্ষতির আশঙ্কা করেন তিনি।