সাকিরার জন্য ধূমল পদ্য
বিরান চরে দাঁড়িয়ে আছে হিজল
তার ছায়াতে রাখাল বসে আছে
মহিষ বাথান ছাড়িয়ে যতই হাঁটি
সমুদ্রটা ততই আসে কাছে
মন যে কেন এমন হুদাই কাঁদে...
আজনবি এক ছায়ার মায়ায় পড়ে
অনিবার্য! পড়ে গেছি ফাঁদে!
জীবন চলে ঘোরের হাতটি ধরে
শ্রাবণ এত বিরহকাতর কেন?
একটানা সে-ই ঝরছে অবিরাম
রাধারমন গাইছে এমন করে, যেন
পুরো চিঠিই বিলাপ ভরা খাম
কোথায় যাব কোন বিরহীর বাড়ি
ফাঁদ কি এমন যুগল পদ্য বোন...?
আমরা হলাম দুই ভুবনের পালা
যৌথ পথে এক জ্যামিতিক কোণ...
উদ্ভিদ
ঘুমঢুলুঢুলু চোখের সামনে
উদ্ভাসিত জ্ঞানশব্দাবলি ক্রমশ জনগণকে
নির্বোধ করে তুলবে?
ওয়াইনের গুপ্তরসায়ন খুলে দিতে থাকবে
পড়শির দিব্যচোখ
চলচ্চিত্র, থিয়েটার, মঞ্চনাটকের সকল কুশীলব
রোদ পোহাতে আসবে নভোথিয়েটারে?
এতসব বিপুল বাহাসের পর
দিন প্রমাণের জন্য রাতকে আহ্বান করতেই সমস্ত বিজ্ঞান
বিজ্ঞাপনের মতো কেলিয়ে হেসে উঠল
নিদ্রাহীন সুন্দরবন কুরিয়ারে পাঠাল নতুন উদ্ভিদ।
যার নাম নোনাজল জানে কিন্তু অভিধানে নেই...
আসুন প্রিয়জন
এই উদ্ভিদের বয়ঃসন্ধিকাল অবধি আমরা তাকিয়ে থাকি দক্ষিণের সীমানা অবধি...
বৃষ্টিরাজ
এই মহামান্য বৃষ্টির ছাটকে আমি কুর্নিশ করি।
কী প্রবল ক্ষমতা নিয়ে তিনি প্রখর রোদকে ম্লান করে মেঘময় করে দিলেন সমস্ত আকাশ।
ইন্দ্র নেই, সভা নেই। নেই কালীদাস
তবু তার কী প্রবল গতি। উদ্দাম, উদ্বেল গতি...
মেঘমল্লার রাগে তিনি বাজছেন, বাজাচ্ছেন নগরসভা।
বিষন্ন ঢাকায় বসে নৃত্যের মূলকেন্দ্র খুঁজতে খুঁজতে আমি পেলাম এই বৃষ্টিরাজের অভিনব মসনদ।
চাটুকারহীন প্রাসাদে তিনি মুখর মগ্নতা নিয়ে দেখছেন
অভৌগোলিক সাম্রাজ্য,
বসত আর যাপনের অহিংস কসরত।
মহামান্য বৃষ্টিরাজ, আদাব!