অলিম্পিকের এই ম্যাচ কোচ মাচেরানোর দেখা ‘সবচেয়ে বড় সার্কাস’

অলিম্পিকের মতো ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’–এর ফুটবল ইভেন্টে আর্জেন্টিনা-মরক্কো ম্যাচটির বিশৃঙ্খলা অবিশ্বাস্য, অচিন্তনীয় কিংবা অভূতপূর্বও বলা যেতে পারে। কারণ, বেশ কিছু ঘটনা। মাঠে দর্শক ঢুকে পড়ায় ম্যাচ স্থগিত হওয়ার পর জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হয়েছে, দর্শকেরা গ্যালারি ছাড়তে পারেন; কারণ, ‘তাঁদের সেশন শেষ হয়েছে’।

ওদিকে ইএসপিএন জানিয়েছে, খেলা স্থগিত হওয়ায় দুই দলের খেলোয়াড়েরা ড্রেসিংরুমে ফেরার প্রায় এক ঘণ্টা পর আয়োজকেরা জানিয়েছেন, অফিশিয়ালি ম্যাচটি শেষ হয়নি। খেলা পুনরায় শুরু করতে দুই দলের খেলোয়াড়দের স্টেডিয়ামেই রাখা হয়।

আর অলিম্পিকের ওয়েবসাইটে দেখানো হয় ম্যাচটি ‘বাধাপ্রাপ্ত’ হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা বিরতি দিয়ে খেলা পুনরায় শুরুর আগে অলিম্পিকের মিডিয়া ওয়েবসাইটের বক্স স্কোরে বলা হয়, অফসাইড সন্দেহে মেদিনার গোলটি ভিএআর প্রযুক্তিতে পরীক্ষা করা হবে।

বিশৃঙ্খলার চূড়ান্ত করে ছাড়া ম্যাচটি শেষে আর্জেন্টিনার অলিম্পিক দলের কোচ হাভিয়ের মাচেরানোর মেজাজ চড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। তার অভিযোগ, খেলোয়াড়েরা মাঠ ছেড়ে জিওফ্রে গুইশার্ড স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে যখন বসেছিলেন, আয়োজকেরা তখনো পরবর্তী করণীয় সমন্ধে কিছু জানাতে পারেননি।

সংবাদকর্মীদের মাচেরানো বলেছেন, ‘কী ঘটেছে, ব্যাখ্যা করতে পারব না। আমরা প্রায় দেড় ঘণ্টা ড্রেসিংরুমে বসে ছিলাম, কিন্তু এরপর কী হবে, সেটি তাঁরা বলতে পারেননি।’

মাচেরানো এরপর ধুয়ে দিয়েছেন আয়োজকদের, ‘মরক্কো অধিনায়ক (পুনরায়) খেলতে চায়নি। আমরাও চাইনি আর দর্শকেরাও আমাদের তাক করে অনেক কিছু ছুড়ে মেরেছে। আমার জীবনে দেখা এটাই সবচেয়ে বড় সার্কাস। জানি না একটি খেলার মুহূর্ত রিভিউ করতে তারা কেন ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় নিল।’

প্রায় দুই ঘণ্টা বিরতির পর খেলা পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে মাচেরানো বলেছেন, ‘মেদিনার গোলে যদি অফসাইড হয়, তবে ম্যাচটি সেভাবেই চালিয়ে যাওয়া যেত। আমার মনে হয় না দেড় ঘণ্টা বিরতি নিয়ে ম্যাচটি আবারও তিন মিনিটের জন্য খেলার প্রয়োজন ছিল।’

আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০৪ ও ২০০৮ অলিম্পিক ফুটবলে সোনাজয়ী সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মাচেরানো আয়োজকদের ধুয়ে দিয়ে আরও বলেছেন, ‘এমন ঘটনা পাড়ার টুর্নামেন্টেও ঘটে না। এটা লজ্জার। অলিম্পিকের চেতনার বাইরে এই সংস্থাকে মানসম্মত হতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই মুহূর্তে তারা সেটি হতে পারেনি।’