মার্কিন কংগ্রেসে নেতানিয়াহুর ভাষণ, বাইরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ

মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আর সেই সময় বাইরে চলছিল যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ। বুধবার এমনই দৃশ্যের সাক্ষী রইল যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার নিজের ভাষণে হামাসের বিরুদ্ধে ‘সম্পূর্ণ জয়ের’ উপরে জোর দেন নেতানিয়াহু। যুদ্ধ পরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের ভাবনার কথা বলেন। 

নেতানিয়াহু যখন এই কথা বলছিলেন, তখন আমেরিকার ক্যাপিটলের বাইরে চলছিল যুদ্ধবিরোধী স্লোগান। বেশ কয়েকটি কফিনকে ফিলিস্তিনি পতাকায় মুড়ে প্রতীকী বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে লেখা পোস্টারে নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে আক্রমণ করা হয়। বিক্ষোভ এবং মিছিলের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩০টি বড় রাস্তা। শেষে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ব্যবহার করে পুলিশ।

এদিকে ভাষণে নেতানিয়াহু মূলত ইরানবিরোধী একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা চুক্তি গঠনের আহ্বান জানান, যাকে তিনি 'আব্রাহাম জোট' বলে অভিহিত করেন। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এটিকে আব্রাহাম জোট বলতে পারি।’ সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশগুলোকে এ জোটে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ভাষণে, ইসরায়েলের কঠিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকায় জো বাইডেনকে ধন্যবাদ জানান নেতানিয়াহু।

ট্রাম্পের ওপর সম্প্রতি চালানো হামলার সমালোচনা করে নেতানিয়াহু বলেন, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো জায়গা নেই। ক্ষমতায় থাকাকালে ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর এবং গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেওয়ায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান নেতানিয়াহু।

গাজায় চলমান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি আমেরিকা আমাদের পেছনে রয়েছে, এজন্য ধন্যবাদ।’

তবে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে এই ভাষণে বেশ কিছু ডেমোক্র্যাট নেতা যোগ দেননি। এছাড়া ভাষণের একপর্যায়ে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যায় দায়ী করে প্ল্যাকার্ড দেখান দুই ডেমোক্র্যাট নেতা।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে ক্যাপিটলের বাইরে জড়ো হয়ে, অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায় হাজারো বিক্ষোভকারী। পরে, বিক্ষোভকারীদের ইরানপন্থী বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।