মাসচেরানো বললেন সার্কাস, মেসির কাছে অবিশ্বাস্য

প্যারিস অলিম্পিকে পুরুষ ফুটবলে আর্জেন্টিনার শুরুটা হয়েছে বিতর্কিত হার দিয়ে। বুধবার ম্যাচের যোগ করা সময়ের শেষ দিকে ক্রিশ্চিয়ান মেদিনা গোল করলে স্কোর ২-২ হয়। সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। মেদিনার সেই গোল ভিএআরে বাতিল হয় প্রায় দুই ঘণ্টা পর! মরক্কো ম্যাচটি জেতে ২-১ গোলে। পুরো ঘটনাকে আর্জেন্টাইন অলিম্পিক ফুটবল দলের কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো বলছেন, সার্কাস। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি বলেছেন ‘অবিশ্বাস্য!’। এরই মধ্যে ফিফায় নালিশও করেছে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস পুরো বিষয়টিকে বলেছে, ঐতিহাসিক বিতর্ক।

সেতঁ এতিয়েঁ-তে ম্যাচে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সুফিয়ান রাহিমি গোল করলে এগিয়ে যায় মরক্কো। ৫১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সেই রাহিমি। ৬৮ মিনিটে এক গোল শোধ দেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে যোগ করা সময় ছিল ১৫ মিনিট। ১৬তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান মেদিনা। তার গোলের উদযাপনের সময়ই মরক্কোর দর্শকরা হট্টগোল শুরু করেন। মাঠে বোতল, প্লাস্টিকের কাপ ও অগ্নিশিখা ছুড়ে মারতে শুরু করেন। উচ্ছৃখল দর্শকরা মাঠেও ঢুকে পড়েন।

বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমের দাবি ১৬তম মিনিটে গোল হওয়ায় নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বেশ কিছু মরক্কান সমর্থকরা। অনেকের ধারণা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে ফ্রান্সের হারের রেশ এই দর্শকদের হট্টগোল।

তখন খেলোয়াড়সহ বাকিরা ড্রেসিং রুমে চলে গেলে ভাবা হয় ম্যাচ শেষ। আন্তর্জাতিক বেশ কিছু গণমাধ্যমেও বলা হয় ম্যাচ শেষ, ফলাফল ২-২ গোলে ড্র। খেলা স্থগিত হওয়ায় দুদলের খেলোয়াড়রা ড্রেসিংরুমে ফেরার প্রায় এক ঘণ্টা পর আয়োজকরা জানান, অফিশিয়ালি ম্যাচটি শেষ হয়নি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ম্যাচ আবার শুরুর পর প্রায় ৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ড খেলা হয়েছে। মেদিনার গোলটি বাতিল করা হয় ভিএআরে।

মাসচেরানো বলেন, ‘কী ঘটেছে, ব্যাখ্যা করতে পারব না। আমরা প্রায় দেড় ঘণ্টা ড্রেসিংরুমে বসে ছিলাম, কিন্তু এরপর কী হবে, সেটি তারা (আয়োজকরা) বলতে পারেননি। মরক্কো অধিনায়ক (পুনরায়) খেলতে চায়নি। আমরাও চাইনি আর দর্শকরাও আমাদের তাক করে অনেক কিছু ছুড়ে মেরেছে। আমার জীবনে দেখা এটাই সবচেয়ে বড় সার্কাস। জানি না একটি খেলার মুহূর্ত রিভিউ করতে তারা কেন ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় নিল।’ প্রায় দুই ঘণ্টা বিরতির পর খেলা পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে মাসচেরানো বলেন, ‘মেদিনার গোলে যদি অফসাইড হয়, তবে ম্যাচটি সেভাবেই চালিয়ে যাওয়া যেত। আমার মনে হয় না দেড় ঘণ্টা বিরতি নিয়ে ম্যাচটি আবারও তিন মিনিটের জন্য খেলার প্রয়োজন ছিল।’

ম্যাচে অতিরিক্ত সময় কেন ১৫ মিনিট ছিল, যে কারণে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি বাতিল করা হয় এবং গোল বাতিলের ঘোষণা কেন পরে দেওয়া হয় এসব বিষয়ের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। তা দেখে নেওয়া যাক-

যে কারণে অতিরিক্ত সময় ১৫ মিনিট ছিল: কাতার বিশ্বকাপের সময়ও ম্যাচের অতিরিক্ত সময় বেশি দেওয়া হয়েছিল। ম্যাচে কী পরিমাণ খেলার সময় নষ্ট হলো, সেই হিসাব রাখে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তি (ভিএআর)। পঞ্চম রেফারিও ঘড়ি দেখে সময় নষ্ট হওয়ার হিসাব রাখেন। চোট, অতিরিক্ত উদযাপনসহ নানা কারণে খেলার সময় নষ্ট হয়। ভিএআর প্রযুক্তিতে যাচাই চলাকালে নষ্ট হওয়া সময়, গোল কিক, থ্রো-ইন এবং ফ্রি কিকে নষ্ট হওয়া সময়ও আমলে নিতে পারেন রেফারি। এসব কারণেই যোগ করা সময় ১৫ মিনিট দেওয়া হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ম্যাচ পুনরায় শুরুর পর বাকি ৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ড ধরলে আর্জেন্টিনা-মরক্কো ম্যাচে মোট যোগ করা সময় ১৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড।

যেভাবে হয়েছে অফসাইড : ইএসপিএন জানিয়েছে, নিকোলাস ওতামেন্দি শট নেওয়ার সময় মরক্কোর শেষ ডিফেন্ডারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আর্জেন্টিনার সেন্টার-ব্যাক ব্রুনো আমিওনে। বল ক্রসবারে লেগে ফেরত আসার পর আমিওনে অফসাইড অবস্থায় বলটি খেলার চেষ্টা করেছেন। এ কারণে ভিএআর গোলটি বাতিল করে।

যে কারণে দেরিতে গোল বাতিলের ঘোষণা : মেদিনা আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোল এনে দেওয়ার পর মরক্কোর সমর্থক মাঠে ঢুকে পড়ায় খেলা যেহেতু আর চালানো যায়নি, তাই ভিএআরের সাহায্য নিয়ে তখন গোলটি বাতিল করলে দর্শকদের হাঙ্গামা আরও বাড়ত, এমনটি ভাবা হয়।