ফাইনাল আর বাংলাদেশের মাঝে ভারত

মহাদেশীয় ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের দুটো আসর প্রায় সমানতালে চলে শেষ হয়ে গেল দিন কয়েক আগে। ইউরো আর কোপা আমেরিকা ফুটবল জগতে বিশ্বকাপের পরই সবচেয়ে জমজমাট আসর। মেয়েদের এশিয়া কাপ ক্রিকেট অবশ্য কৌলীন্যে তার ধারেকাছেও নয়। তার ওপর বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে খুব কম মানুষেরই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শ্রীলঙ্কায় চলমান নারীদের ক্রিকেটের এই আসর। শোক কাটিয়ে, ধ্বংসস্তূপকে পেছনে ফেলে ফের স্বাভাবিক হওয়ার রাস্তায় জনজীবন। সচল হয়েছে অন্তর্জালের জগতের সঙ্গে যোগাযোগও। শুক্রবার দুপুরে দাম্বুলায় নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের সঙ্গে স্মৃতি মান্দানাদের দ্বৈরথে তাই হয়তো চোখ থাকবে অনেক বেশি দর্শকের।  বাংলাদেশ যদি ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেই যায়, তাহলে কারফিউ আর লাশের সংখ্যার খবরের ভিড় ঠেলে মেয়েদের ক্রিকেটও জায়গা করে নেবে শিরোনামে।

পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের নারীদের সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে ২২ বার খেলে মাত্র ৩ বার জিতেছে বাংলাদেশ। দুটো জয় এসেছিল ২০১৮ সালের এশিয়া কাপে, কুয়ালালামপুরে। আর সবশেষটা এক বছরের একটু বেশি সময় আগে, গেল বছরের ১৩ জুলাই মিরপুরে। এরপর এশিয়ান গেমস এবং সিলেটে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ মিলিয়ে ৬ ম্যাচে বাংলাদেশ জয়হীন ভারতের বিপক্ষে। দাম্বুলায় আজ সেটা টানা সপ্তম হার হবে নাকি চতুর্থ জয়ের দেখা পাবে বাংলাদেশ, সেটা অনেকটাই নির্ভর করছে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটারদের ব্যর্থতার পর টপ অর্ডারে বদল আনে বাংলাদেশ। মুরশিদা খাতুন দলে ফেরেন ওপেনার হিসেবে। থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ার বিপক্ষে তার টানা দুই ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি সাহস জোগাচ্ছে অধিনায়ককে। মালয়েশিয়াকে হারানোর পর জ্যোতির কণ্ঠে ছিল সেই আত্মবিশ্বাস, ‘ব্যাটারদের ধারাবাহিকতাটা সবচেয়ে স্বস্তির জায়গা। মুরশিদা আগের ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করেছে আর আজ (মালয়েশিয়ার বিপক্ষে) সে ভালো একটা ইনিংস খেলেছে। বোলাররাও খুব ভালো বোলিং করেছে, তারা খুব ধারাবাহিক ছিল। বিশেষ করে নাহিদা এবং রাবেয়া।’ ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনাল নিয়ে জ্যোতির মন্তব্য, ‘আমরা ভালো ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করছি। আমরা চাইব আমাদের গেমপ্ল্যানটা মাঠে কার্যকর করার। বাকিটা নির্ভর করবে নির্দিষ্ট দিনে আমরা কতটা ভালো খেলি। আমি জানি আমার দলের সামর্থ্য কতখানি, আমরা আমাদের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করব। দেখা যাক কী হয়।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দলের বাকিদের ব্যর্থতার মধ্যেও ৪৮ রানে অপরাজিত ছিলেন জ্যোতি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষেও করেছেন হাফসেঞ্চুরি। অধিনায়ক জানেন রান করার মূল দায়িত্বটা তার কাঁধেই, ‘এ রকম উইকেটে ব্যাট করতে আমি সবসময়ই ভালোবাসি। এখানে বল সুন্দরভাবে ব্যাটে আসছে। অন্যপ্রান্ত থেকে মুরশিদার ব্যাটেও বল লাগছিল ভালোভাবে, তাই ভাবলাম এটা আমারও সুযোগ।’ বাংলাদেশ দলে সেমিফাইনালে একটা পরিবর্তন আসাটা নিশ্চিত। মারুফা আক্তার আসবেন একাদশে। তরুণ এই পেসার দেশে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে বেশ ভালো করেছেন, ৪ ম্যাচে নিয়েছেন ৫ উইকেট। সেমিফাইনালকে ঘিরে স্বপ্ন মারুফার চোখেও, ‘নতুন বলে আমি ভালোই সুইং পাই কিন্তু শেষের দিকের ওভারে আমার বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি বলের গতির তারতম্য নিয়ে কাজ করছি, বেশ ভালোই এগোচ্ছে।’

নেপালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের পর স্মৃতি মান্দানা বলেছেন, ‘আমরা কোনো দলকেই হালকা ভাবে নিচ্ছি না, আমাদের জন্য কোনো কিছুই বদলায়নি।’ স্মৃতি জানেন, বাংলাদেশ সুযোগ পেলে ছাড়বে না। বাংলাদেশকে আটকাতে হবে বড় রান করে, যে রানটা বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামর্থ্যরে বাইরে। সে জন্য তাদের তুরুপের তাস শেফালি ভার্মা, সবশেষ ম্যাচে ৪৮ বলে ৮১ রান করেছেন এই ব্যাটার। প্রায় ২০০ স্ট্রাইক-রেটে ব্যাট করা শেফালির মতো ব্যাটার নেই বাংলাদেশ দলে, তাই তাকে শুরুতেই ফেরাতে দরকার হবে মারুফার মতো কাউকেই।

পাকিস্তানকে ১০৮ রানে আটকে দিয়ে ১৫ ওভারেই রানটা তাড়া করে জিতেছে ভারত, আরব আমিরাতের বিপক্ষে করেছে ২০১ রান আর নেপালের বিপক্ষে ১৭৮। ব্যাটিংয়ের শক্তিতে এগিয়ে থাকা ভারতকে আটকে দিতে হবে বোলিং দিয়ে, সেটা জানা আছে জ্যোতির। সবশেষ জয়টা তো এসেছিল এই সমীকরণ মিলিয়েই। তবে দিনের ম্যাচ বলেই শিশিরের প্রভাব থাকবে না তাই টসও খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে না। বোলারদের আঁটসাঁট বোলিং আর ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংই জেতাতে পারে বাংলাদেশকে। এমনটা হলেই অস্থির সময়ে সিংহল দ্বীপ থেকে বয়ে আসা খানিকটা স্বস্তির হাওয়া আশা করাই যায়!