প্রাণ বাঁচাতে কবরস্থানে, পরিত্যাক্ত কারাগারে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা

নতুন করে আবারও গাজা শহরের ৮০ শতাংশ জায়গা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। আবারও গাজার দক্ষিণাঞ্চলে খান ইউনিসে স্থল অভিযান চালাচ্ছে দখলদার বাহিনীরা। এসবের মধ্যেও তীব্র বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।

দখলদার ইসরায়েলি সেনাদের হামলা ও বোমাবর্ষণের মধ্যে অসহায় হয়ে পড়েছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়ের জন্য নতুন নতুন জায়গা খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। এমনকি অনেক ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিচ্ছেন পরিত্যক্ত কবরস্থানে এবং কারাগারে।

অথচ এই কারাগার তৈরি করা হয়েছিল খুনি ও চোরদের আটকে রাখার জন্য। খবর আল জাজিরা ও রয়টার্স।  

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাদের হামলা ও বোমা থেকে বাঁচতে পরিত্যক্ত কারাগারে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েকশ ফিলিস্তিনি। সেখানে থাকা ইয়াসমিন আল-দারদেশি নামে এক নারী এ তথ্য জানিয়েছে।

গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস থেকে বাস্তচ্যুত হওয়ার পর পরিত্যাক্ত কারাগারটিতে আশ্রয় নেয় ইয়াসমিন আল দারদাসির পরিবার। তিনি জানান, তার পরিবার তিন দিন একটি গাছের নিচে কাটিয়েছেন। এখন তারা খান ইউনিসের কেন্দ্রীয় সংশোধন ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মসজিদে থাকেন। এখানে তারা সূর্যের প্রখর রোদ থেকে রক্ষা পাওয়া ছাড়া আর তেমন সুবিধা পাচ্ছেন না।

ইয়াসমিনের স্বামীর কিডনি ও ফুসফুসের সমস্যা রয়েছে। অসুস্থ এ মানুষটি কোনো ধরনের লেপ ও তোষক ছাড়াই থাকছেন। এখান থেকেও বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন এই নারী ও তার পরিবার।

আল জাজিরা জানায়, খান ইউনিসের কিছু ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত লোকের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কবরস্থানে একটি জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য, পানি, জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের চরম সংকটে দিন যাপন করছে তারা। দেখা দিয়েছে চরম মানবিক বিপর্যয়। ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।