জামালপুর

খাল ভরাট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবছে শহর

জামালপুর শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে বংশ খাল। বর্তমানে খালটি পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে ইচ্ছেমতো। খালের কালো পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। খালের পাড়ের বাসিন্দাদের চলতে হয় নাক চেপে। খাল ভরাট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবছে শহর। 

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের কালিঘাট থেকে মালগুদাম পর্যন্ত বিস্তৃত বংশ খাল। এর দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার। খালটির দুই পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। খালের কোথাও তিন মিটার আবার কোথাও আড়াই মিটার প্রশস্ত। পুরো খালে বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসাবর্জ্য ভাসছে। কোথাও কোথাও খালের মধ্যে লতাপাতায় ভরে গেছে। পুরো খাল ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গিয়ে পয়োনিষ্কাশন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। ময়লা-আবর্জনার ওপর মশা-মাছি উড়ছে। 

জামালপুর জেলা পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘ভরাট আর দখল হতে হতে এখন তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং তিন মিটার প্রস্থ অবয়ব নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে বংশ খালটি। গেটপাড়, মালগুদাম হয়ে শহরের মাঝখান মৃধাপাড়া, মুকুন্দবাড়ি, দয়াময়ী মোড়, মেডিকেল রোড, রানীগঞ্জ বাজার হয়ে কালীঘাট দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে এসে মিশেছে খালটি। এটি পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পৌরসভা কর্তৃপক্ষের। কিন্তু ১০ বছরেও খালটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’

শহরের দয়াময়ী এলাকার বংশ খালের পাড়ের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘খাল ভরাট হয়ে পয়োনিষ্কাশন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। এই খালপাড়ের বাসিন্দারা বেশ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। পচা পানির দুর্গন্ধে ঘরের মধ্যে টেকা যায় না। মশা ও পোকামাকড় উৎপাদনের কারখানায় রূপ নিয়েছে।’

জামালপুর পৌরসভার মেয়র ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘বংশ খাল পুরোপুরি পরিষ্কারের জন্য সেখানে বড় ধরনের গাড়ি ঢোকানো যায় না। তবে পৌরসভার শ্রমিক দিয়ে যতটুকু করা যায় তা করা হচ্ছে।’