কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দশ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে নাটকের শুটিং। এরমধ্যে বহু নাটকের শুটিং বাতিলের খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে মোটা অঙ্কের ক্ষতির মুখে তারা। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনই শুটিং শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন নির্মাতা-প্রযোজকরা। জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, তানজিন তিশা, মুশফিক ফারহান, তৌসিফ মাহবুব, ফারহান আহমেদ জোভান, খায়রুল বাসার, সাফা কবির, নাজনীন নীহাসহ আরও অনেকেরই শুটিং বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে। কবে নাগাদ শুটিং শুরু করবেন সেই বিষয়ে এখনো কেউ নিশ্চিত বলতে পারছেন না। তবে বেশিরভাগই পরিকল্পনা করছেন আগামী মাস থেকেই শুটিংয়ে নামার।
এই বিষয়ে পরিচালক রাফাত মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখনো তো দেশের পরিস্থিতি সেভাবে স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। যে কারণে এখনো সঠিকভাবে কোনো কিছুই বলতে পারছি না। গত সপ্তাহে আমার একটি নাটকের শুটিং করার পরিকল্পনা ছিল কিন্তু সেটি বাতিল করতে হলো। এমন অবস্থায় কারও মন-মানসিকতাই তো ভালো নেই। সবকিছু ঠিক হলে হয়তো কাজ শুরু করব। আগস্টের শুরুর দিকে কাজে নামার পরিকল্পনা রাখছি, দেখা যাক কী হয়।’
দেশের এমন পরিস্থিতিতে কারফিউ শিথিল হওয়ায় পুবাইলে একটি নাটকের শুটিং করেন নিলয় আলমগীর ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। এটি পরিচালনা করেন মাইদুল রাকিব। অভিনেত্রী জানান, থানা থেকে পরিচালক অনুমতি নিয়েছিলেন। সব নিয়ম মেনেই আমরা শুটিং করেছি। শুটিং হাউজের মধ্যে কোনো সমস্যা হয়নি।
এর মধ্যে অনেক তারকাই বর্তমানে অবস্থান করছেন দেশের বাইরে। ঈদের পর পর অনেকেই ছুটি কাটাতে দেশের বাইরে গিয়েছেন যারা ইতিমধ্যে দেশেও ফিরেছেন। কিন্তু আরও অনেকেই রয়েছেন যারা চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশ ছেড়েছেন পূর্বপরিকল্পনানুযায়ী। জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে চুক্তিবদ্ধ হওয়া এবং এই মাসে শিডিউল দেওয়া নাটকের শুটিং শেষ করতেই বাইরে (থাইল্যান্ডে) অবস্থান করছেন তারা। এরমধ্যে রয়েছেন ফারহান আহমেদ জোভান, তৌসিফ মাহবুব, সাফা কবির, আইশা খান প্রমুখ। এও জানা গেছে, শিগগিরই তাদের সঙ্গে আরও যোগ দেবেন তাসনিয়া ফারিণ, ইরফান সাজ্জাদ, সাদিয়া আয়মান, নিলয় আলমগীর, হিমিসহ আরও অনেকেই।
এরমধ্যে দেশের বাইরে থাকলেও সারাক্ষণই তাদের মন দেশে পড়ে আছে বলে জানালেন অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। বললেন, ‘অনেক আগেই প্রযোজককে কথা দেওয়া এবং শিডিউল দেওয়া, যে কারণে আমাদের এখানে আসা। ছুটি কাটানো একইসঙ্গে শুটিং, দুটোই। তবে দেশের বাইরে থাকলেও সারাক্ষণ মন পড়ে আছে দেশে। এখান থেকেই সবকিছুর খোঁজখবর নিচ্ছি, দেখছি। দেশে যা কিছু হচ্ছে তাতে আমাদের কারোরই মন ভালো নেই।’
ফারহান আহমেদ জোভান বললেন, ‘আমি তো অনেক আগেই এসেছি ব্যক্তিগত কাজে। এরপর এখান থেকেই জানতে পারলাম দেশে আন্দোলন চলছে। এরপর প্রতি মুহূর্তই খোঁজ রাখছিলাম দেশের পরিস্থিতি নিয়ে। যা হয়েছে বা হচ্ছে সেটা সত্যি খুব দুঃখজনক।’
এদিকে, শুটিংয়ে অংশ নিতে আজই থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হবেন সাদিয়া আয়মান। সেখানে তিনি চারটি নাটকে অংশ নেবেন বলে জানালেন। বললেন, এই নাটকগুলোর জন্য রোজার আগে শিডিউল দেওয়া। সেখানে অনেকেই রয়েছেন, আমি যাচ্ছি এবং আরও অনেকেই যাবেন এরমধ্যে শুনেছি। শুটিংগুলো শেষ করে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই দেশে ফিরব।
পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় এখনো পুরোদমে শুটিংয়ের পরিবেশ তৈরি হয়নি। জানা গেছে, আগস্টে শুটিংয়ে নামার পরিকল্পনা করছেন শিল্পী-নির্মাতারা।