এ মাসের শুরুর দিকে অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনে জয় লাভ করেন সংস্কারপন্থি প্রার্থী পেজেশকিয়ান। হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি নিহত হলে এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আজ রোববার সকালে ড. মাসুদ পেজেশকিয়ানকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের আগে সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন পেতে হয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনুমোদনের ডিক্রি জারির অনুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার ডিক্রিতে বলেছেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তিনি আবারও ইসলামী ইরানের জন্য সম্মান এনে দিয়েছেন। জনগণ ও কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং জাতির নির্বাচিত ব্যক্তি এখন মহান দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।
ডিক্রিতে আরও বলা হয়েছে, শহীদ রাইসির অসমাপ্ত মেয়াদের পর অনুষ্ঠিত ১৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে যুক্তি, বুদ্ধি ও সংযমের উপস্থিতির প্রমাণ বহন করছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একই ধরণের পরিস্থিতিতে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। এ অবস্থায় ইরানের এমন রাজনৈতিক পরিবেশ ইরানিদের অসাধারণত্বকেই তুলে ধরে।
নতুন প্রেসিডেন্ট নিয়োগের ডিক্রিতে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, 'আমাদের মহান জাতির ইচ্ছার ভিত্তিতে আমি জ্ঞানী, সৎ, জনগণমুখী ও বিদ্বান ড. মাসুদ পেজেশকিয়ানের জন্য জনগণের রায়কে সমর্থন করছি এবং তাকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত করছি।'
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নতুন প্রেসিডেন্টের সাফল্য কামনা করে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ডিক্রিতে। তিনি বলেছেন, ড. পেজেশকিয়ানের সাফল্যের জন্য আন্তরিক দোয়া ও শুভকামনা করে আমি এটা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, তিনি যতদিন ইসলাম ও বিপ্লবের সরল পথ অনুসরণের অবিচল নীতিতে অটল থাকবেন ততদিন জাতির রায় এবং আমার অনুমোদন অব্যাহত থাকবে।
আগামী মঙ্গলবার ইরানের পার্লামেন্ট মজলিসে শুরায়ে শপথ গ্রহণ করবেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। ৫ জুলাইর ভোটে এক কোটি ৬০ লাখেরও বেশি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন পেজেশকিয়ান (৬৯)। পেজেশকিয়ান পেশায় একজন হার্ট সার্জন। তিনি ২০০৮ সাল থেকে পার্লামেন্টে উত্তর-পশ্চিমের শহর তাবরিজের প্রতিনিধিত্ব করে এসেছেন। ইরানের সর্বশেষ সংস্কারপন্থি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ খাতামির সরকারে ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন পেজেশকিয়ান।