বিদেশে মোটা বেতনের চাকরির টোপ দিয়ে পাঠানো হয়েছিল রাশিয়ায়। সেখানেই মৃত্যু হলো আরও এক ভারতীয় নাগরিকের। মস্কোতে ভারতীয় দূতাবাস সেই খবর নিশ্চিত করেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, প্রতারণার শিকার হয়েই তাদের ছেলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নিহত রবি মৌন (২২) হরিয়ানার বাসিন্দা। সোমবার তার পরিবার দাবি করেছে, পরিবহণ ক্ষেত্রে চাকরি দেওয়া হবে, এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে রবিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেখা যায়, রাশিয়াতে পৌঁছে রবি দেখেন তাকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া বাধ্য করা হয়।
নিহতের ভাই অজয় জানান, গত ১৩ জানুয়ারি রাশিয়া গিয়েছিলেন রবি। এক এজেন্ট মারফত বিদেশে পরিবহণ ক্ষেত্রে একটি চাকরি জুটিয়েছিলেন তিনি। দেশ ছাড়ার সময় খুবই খুশি ছিল। কিন্তু রবি দেখেন তাকে রাশিয়া পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার পরই সেখানকার এক এজেন্ট তার পাসপোর্ট জমা করে নেন।
রবিকে জানানো হয়, তাকে সেনাবাহিনীতে কাজ করতে হবে। জোর করেই ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল। যদি রবি সেই প্রস্তাব না মানতেন তবে তার ১০ বছরের জেল হবে বলেও ভয় দেখানো হয়েছিল।
রাশিয়ান সেনাবাহিনীকে কী কাজ করতে হত রবিকে? অজয়ের দাবি, তার দাদা জানিয়েছিল তাকে খাল কাটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। মার্চ পর্যন্ত রবির খবর পেত তার পরিবার। তার পর যোগাযোগ পুরো বিচ্ছিন্ন। গত ২১ জুলাই রবির খবর পেতে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাই রবির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
তবে এখনও রবির দেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। মৃতদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে বলেও পরিবারকে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে রবির পরিবার। তাদের আশা, খুব তাড়াতাড়ি দেহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। অজয় জানিয়েছেন, রবিকে বিদেশে পাঠাতে পৈতৃক জমি বিক্রি করে সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা জোগাড় করা হয়েছিল। কিন্তু দেহ ফিরিয়ে আনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ তাদের কাছে নেই।
অতীতেও ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে লড়াই করতে গিয়ে কয়েকজন ভারতীয়র মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। তার পরই এই প্রতারণা চক্রের বিষয়টি নজরে আসে। ভারত সরকারের তরফে বিষয়টি জানিয়ে ভারতীয়দের সতর্ক করা হয়েছে। এমনকি, রাশিয়াতে আটকে থাকা ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও উদ্যোগী হয়েছে মোদি সরকার।