জীবন যখন যেখানে যেমন

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। প্রায় দশ দিনেরও বেশি সময় ধরে সবকিছুই যেন স্থবির হয়ে আছে। তবে একটু একটু করে শোবিজ অঙ্গনের সবাই কাজে ফিরতে শুরু করছে। ব্যতিক্রম নন শোবিজের উপস্থাপিকারাও। তবে এরমধ্যে কেউ কেউ বের হয়েছেন, অফিস করেছেন এবং সহিংসতারও মুখোমুখি হয়েছেন।

অস্থিরতার এই সময়েও প্রায় প্রতিদিন অফিস করেছেন সংবাদ উপস্থাপিকা কানিজ লাবণী। বাসা থেকে অফিসে আসার পথে সহিংসতার মুখেও পড়েছেন। তার অফিসের গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তেমন কোনো ক্ষতি নাহলেও প্রতিদিন টানা সংবাদ উপস্থাপনা করে গেছেন। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা সংবাদ উপস্থাপন করি তাদের তো প্রায় প্রতিদিনই অফিসে আসতে হয়েছে, রাত-ভোর পর্যন্ত লাইভ করতে হয়েছে। যেদিন দেশে কারফিউ জারি হলো তার আগের দিন অফিসে আসার সময় দুর্বৃত্তরা গাড়িতে আগুন দিয়ে দেয়। ওই সময় এমন অবস্থা হয়েছিল যে গাড়ি থেকে নামিয়ে ড্রাইভারকে পেটানো হয়। তবে মেয়ে বলে হয়তো আমি কিছুটা পার পেয়ে গেছি। তেমন কিছু হয়নি আমার। এই সময়টা আমাদের জন্য একটু কঠিনই ছিল। চাই সবকিছু খুব দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠুক। কারণ এই অস্থির সময়টাতে কারোই ভালো লাগছে না। আগের মতো করে সুন্দর ও একটা স্বাভাবিক পরিবেশ দেখার অপেক্ষায় আমরা সবাই।’

উপস্থাপিকা হিসেবে সেভাবে বাইরে বের হতে না পারলেও প্রায় প্রতিদিনই শ্রাবণ্য তৌহিদাকে মেডিকেলে যেতে হয়েছে। কারণ উপস্থাপিকার বাইরেও তিনি একজন চিকিৎসক। তার ভাষ্য, অন্য সবার মতো না হলেও বিষয়গুলো কিন্তু আমার জন্য বেশ স্বাভাবিক। যেহেতু আমি একজন চিকিৎসক আমাকে প্রতিদিনই হাসপাতালে যেতে হয়েছে। এই বিষয়গুলো দেখে অভ্যস্ত। তবে হ্যাঁ, এই সময়ে অনেকগুলো শো-ই ক্যানসেল হয়েছে এবং গোটা দেশেই কিন্তু একটা স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। সবকিছুই তো বন্ধ ছিল। এখন তো স্বাভাবিক হচ্ছে দেশের পরিস্থিতি, সবাই কাজেও ফিরছে। শিগগিরই হয়তো শো কন্টিনিউ করতে পারব। 

উপস্থাপিকা ও অভিনেত্রী মৌসুমী মৌ এই সময়ের পুরোটাই বাসাতে ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘দেশের এমন পরিস্থিতিতে আমরা কেউই ভালো নেই। মাঝে ইন্টারনেট ছিল না, এরপর এলো। সময়টা যে খুব খারাপ কেটেছে তেমন না। বাসায় পরিবারকে সময় দিতে পেরেছি। বই পড়েছি, নিজেকে সময় দিয়েছি। অনেকগুলো শো, ইভেন্ট ক্যানসেল হয়েছে। এখন আবার একটু একটু করে পরিবেশ স্বাভাবিক হচ্ছে, দুয়েকটা শো হচ্ছে। ইভেন্ট তো এখন করা যাচ্ছে না। অক্টোবর পর্যন্ত আমার শিডিউল দেওয়া কিন্তু সবকিছু স্বাভাবিক না হলে কিছুই বলা যাচ্ছে না।’

এদিকে প্রায় ১৬ দিন পর দেশে ফিরেছেন আরেক উপস্থাপিকা নীল হুরেরজাহান। যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কিছু শোতে অংশ নিতে দেশটিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। গতকালই ফিরলেন ঢাকাতে। তিনি বলেন, ‘আমি তো দেশে ছিলাম না। দেশের বাইরে কয়েকটা শো ছিল। সেগুলো শেষ করে সোমবার ঢাকায় ফিরলাম। দেশের বাইরে থাকলেও মন পড়েছিল এখানেই। বাইরে থেকেই দেশের খবরাখবর দেখছিলাম। এমন অবস্থাতে দেশেও তো শো সেভাবে হয়নি, সবকিছুই বন্ধ ছিল। এখন হয়তো একটু একটু করে সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এরমধ্যে কিছু টেলিভিশন শোয়ের কথাও হয়েছে। হয়তো শিগগিরই শুরু করব।’

ঘরবন্দি সময়ে কেটেছে উপস্থাপিকা অর্চি রহমানেরও। সেভাবে বাসা থেকে বের হননি। তবে এরমধ্যে কিছু শো-এর শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন বলে জানা যায়। বললেন, ‘প্রায় সপ্তাহ খানেক বাসা থেকেই বের হতে পারিনি। বাসায় পরিবারের সঙ্গে সময় কেটেছে। গত কিছুদিনে কিছু শো-এর শুটিং করেছি। এরমধ্যে অনেকগুলো শো, ইভেন্ট ক্যানসেল হলো। আশা করছি সবকিছু খুব তাড়াতাড়ি ঠিক হবে এবং আমরা সবাই আমারও হাসিমুখে কাজে ফিরতে পারব।’