সিনেমা হল খুললেও নেই দর্শক

অনেকদিন পর গেল ঈদের সিনেমা ঘিরে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে নেমেছিল দর্শকের ঢল। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সিনেমা হলে দর্শকদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। পঞ্চম সপ্তাহ পেরিয়েও দর্শক ঠেকানো যায়নি। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে চলমান অস্থিরতায় দেশের সবকিছুই যেন স্থবির হয়ে পড়েছে। বেকায়দায় পড়েছে দেশের সিনেমা হলগুলো। বন্ধ করে দিতে হয় শো। গেল ১৯ জুলাই থেকে দেশের সব মাল্টিপ্লেক্স শো বন্ধ করে দেওয়া হয়, সে সঙ্গে সিঙ্গেল হলও।

এগারো দিন পেরিয়ে গেলেও দেশের পরিস্থিতি এখনো সেভাবে স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। স্বভাবতই হল খুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না কর্র্তৃপক্ষরা। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এরমধ্যে কিছু হল খুললেও দর্শকের আনাগোনা নেই বললেই চলে। গত ২৫ জুলাই রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সের সবগুলো শাখা খুলে দেওয়া হয় এবং দেশি এবং বিদেশি দুই সিনেমাই চালানো হয়। কিন্তু সেভাবে দর্শক লক্ষ করা যায়নি।

স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তো এখনো সেভাবে স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। তারপরেও আমরা গত বৃহস্পতিবার থেকে হলগুলো চালু করেছি। ‘তুফান’, ‘আজব কারখানা’সহ বিদেশি সিনেমার প্রতিদিন দুটি করে শো চালু রেখেছি। দেশে এখনো কারফিউ চলমান যে কারণে আমরা শুধু এখন সকাল আর দুপুরের শো-ই চালু করেছি। কিন্তু তাতে করেও তো কিছু হচ্ছে না। দর্শক তো নেই। এমন অবস্থায় কারোই তো মনমানসিকতা ভালো নেই। মন ভালো না থাকলে মানুষ সিনেমা হলে কেনই বা আসবে! ব্যবসায়ের কথা চিন্তা করে আপাতত খুলেছি কিন্তু দর্শক যদি না আসে তাহলে আমাদেরই বা কী করার আছে!’

এদিকে রাজধানীর বাইরে বেশ কিছু সিঙ্গেল হল খোলার খবর পাওয়া গেছে। জিঞ্জিরা, আড়াইহাজার, আজাদ সিনেমা হল, মণিহার সিনেমা হল চালু থাকলেও প্রায় দর্শকশূন্য।

প্রদর্শক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মিয়া আলাউদ্দিন বললেন, এখন দেশের যে পরিস্থিতি মানুষ জীবন নিয়েই আতঙ্কিত, সিনেমা দেখবে কি! যেসব হল কয়েকটা খোলা আছে সেগুলোতেও তো দর্শক নেই সেভাবে। সবকিছু স্বাভাবিক হলে হয়তো আবারও দর্শক ফিরবে।

শ্যামলী সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘এখনো তো কোনোকিছুই স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। সিনেমা হল কবে খুলতে পারব সেটা এখনো বলতে পারছি না। আর না খুলতে পারার কারণে তো ক্ষতি হচ্ছেই। স্টাফদের স্যালারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন খরচাদি তো আছেই। এখন হল খুললেও দর্শক আসার মতো পরিস্থিতি তো দেখছি না। মানুষের মনেই তো এখন শান্তি নেই, সিনেমা দেখতে আসবে কি! আমি নিজেও তো এমন পরিস্থিতিতে পরিবার নিয়ে বাইরে বের হব না। জানি না কবে সবকিছু ঠিক হবে বা কবে হল খুলব।’

এদিকে গত শুক্রবার ‘হৈমন্তীর ইতিকথা’ নামে একটি সিনেমা মুক্তির কথা থাকলেও সরে গেছে। পরে কবে এটি মুক্তি পাবে তা নিয়েও সন্দিহান পরিচালক মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেন। দেশের এই পরিস্থিতিতে আপাতত নতুন কোনো সিনেমা মুক্তির সম্ভাবনা নেই।