সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এতে স্থবির হয়ে পড়ে দেশের অর্থনীতি। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় বন্ধ হয়ে পড়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও। দেশব্যাপী সহিংসতা ও কারফিউর কারণে স্থানীয় রপ্তানিকারকরা বন্দরে বিলম্বের সম্মুখীন হওয়ায় আন্তর্জাতিক পোশাকের খুচরা বিক্রেতা এবং ব্র্যান্ডগুলো তৈরি পোশাকের চালান সময়মতো পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের এসব আন্তর্জাতিক ক্রেতারা স্থানীয় পোশাক সরবরাহকারীদের সময়মতো পণ্য পাঠানো নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরুদ্ধারের ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।
গতকাল সোমবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে তৈরি পোশাক কারখানার নেতাদের সঙ্গে এসব দাবি করেন ক্রেতারা।
বৈঠকের পর বিজিএমইএ সভাপতি এস এম মান্নান কচি সাংবাদিকদের জানান, খুচরা বিক্রেতা এবং ব্র্যান্ডগুলো তাদের আশ্বস্ত করেছে সাম্প্রতিক সহিংসতায় উৎপাদন বন্ধের কারণে তারা কোনো ডিসকাউন্ট চাইবে না, উড়োজাহাজে পাঠানোর দাবি করবে না বা কাজের আদেশও বাতিল করবে না।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে এবং তৈরি পোশাক খাতে তার প্রভাব ও এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক পোশাক ক্রেতাদের অবহিত করার জন্য আমরা বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বাংলাদেশে অবস্থিত বিশ্বের নামিদামি পোশাক ক্রেতা প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি সভায় মিলিত হয়েছি।
পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মান্নান কচি তার বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সভায় আমরা গত ১৮ জুলাই শুরু হওয়া অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এবং তা নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেছি। শিল্পের স্বাভাবিক কর্মকা- চলমান রাখতে এবং সাপ্লাই চেইন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আমরা বিজিএমইএর পদক্ষেপগুলো ক্রেতাদের সঙ্গে শেয়ার করেছি।
তিনি বলেন, পোশাক শিল্পে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রথম দিন থেকেই সরকারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছি। দ্রুততম সময়ে কারখানা চালু করা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ শিল্পের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছি। সরকারের আন্তরিক ও ত্বরিত পদক্ষেপের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আমরা অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে পুনরায় কারখানাগুলো চালু করতে পেরেছি।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নজিরবিহীন এ পরিস্থিতিতে পোশাক কারখানা ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানসহ সবাই দুর্ভোগে পড়েছিল। আমাদের কারখানাগুলো এখন উইন্টার সিজনের অর্ডার নেগোসিয়েশনে যখন ব্যস্ত সময় পার করছিল, তখন এরকম একটি নৈরাজ্যকর ঘটনা দেশের অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছে।
তার মতে, এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসার পরিবেশ স্বাভাবিক করা, শিল্পে গতি ফিরিয়ে আনা ও বন্দর কার্যক্রমে যেন কোনো ধীরগতি বা জটলা না হয়, সে বিষয়ে আমাদের কর্মতৎপরতার বিষয়গুলো আমরা তাদের কাছে তুলে ধরেছি। আমরা নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি এবং বন্দর পরিষেবাগুলোকে দ্রুততর করার জন্য এবং অনাকাক্সিক্ষত বিলম্বের ফলে আমদানি-রপ্তানিকারকরা যেন বন্দরে কোনো ধরনের ডেমারেজের শিকার না হয়, সেই দাবিটি জানিয়েছি। তিনি আমাদের অনুরোধে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন।
এ ছাড়া শিল্পের গতি দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য বন্দর, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, এনবিআরসহ সার্বিক পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় সবরকম পদক্ষেপ নিচ্ছি বলে তাদের আশ্বস্ত করেছি।
ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তুলে ধরে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এ অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিতে পাঁচ দিন বন্ধের সময় আমরা বেশ কিছু উৎপাদন এবং রপ্তানি হারিয়েছি, আমাদের মার্কেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে কারখানাগুলো আর্থিকভাবে এবং সাপ্লাই চেইনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা যখন টিকে থাকার জন্য চেষ্টা করছিলাম, সে সময় এরকম একটি পরিস্থিতি আমাদের শিল্পের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
ক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে কারখানাগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল থাকার জন্য ক্রেতাদের আহ্বান জানিয়েছি। অপ্রত্যাশিত বিলম্বের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর ওপর যেন বাড়তি কোনো চাপ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আমি সব ক্রেতার প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ করেছি।