প্রায় নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজাতে বর্বর আগ্রাসন ও গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার দেশ ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনীর হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে সাংবাদিক বা ডাক্তারও।
দখলদার ইসরায়েলের বর্বর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার দুই সাংবাদিক। গতকাল বুধবার (৩১ জুলাই) গাজার পশ্চিমে আল শাতি ক্যাম্পে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত দুই সাংবাদিক হলেন আল-জাজিরা অ্যারাবিকের সাংবাদিক ইসমাইল আল-গউল ও তাঁর ক্যামেরাপারসন রামি আল-রিফি। খবর আল জাজিরা।
বুধবার পশ্চিম গাজার আল শাতি ক্যাম্পে এই দুই সাংবাদিকের গাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলা হয়। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সদ্য প্রয়াত রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়ার বাড়ির কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হানিয়ার মৃত্যু নিয়ে সংবাদ করতে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন তাঁরা।
বুধবার দিনের শুরুতে ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন হানিয়া।
গাজা থেকে আলজাজিরার আরেক সাংবাদিক আনাস আল শরীফ জানান, তিনি একটি হাসপাতালে আছেন, সেখানে তার দুই সহকর্মীর মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে।
আল জাজিরা জানায়, ইসমাইল এবং রামি গণমাধ্যমের চিহ্নিত ‘প্রেস’ লেখা পোশাক পরিহিত ছিলেন এবং তাদের গাড়িতেও গণমাধ্যম লেখা ছিল। হামলার ১৫ মিনিট আগেও তাঁরা অফিসে থাকা সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
আল জাজিরা জানায়, অফিসে যোগাযোগের সময় তাঁরা তাদের কাছাকাছি একটি বাড়িতে হামলার কথা জানিয়েছিল এবং অফিস থেকে তাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী আল-আহলি আরব হাসপাতালে যাওয়ার পথে হামলায় দুজনই নিহত হন।
এই হামলার বিষয়ে ইসরায়েল তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার জানিয়েছে। গাজায় ১০ মাস ধরে চলা যুদ্ধে এর আগেও সাংবাদিকদের ওপর চালানো হামলার ঘটনাগুলো অস্বীকার করেছে দেশটি।
একটি বিবৃতিতে, আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক এই হত্যাকাণ্ডকে ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা একটি "পূর্ব পরিকল্পিত হত্যা" বলে অভিহিত করেছে এবং এই অপরাধের অপরাধীদের বিচারের জন্য সমস্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) হিসাব অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১১১ জন সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী নিহত হয়েছেন। অবশ্য গাজার গণমাধ্যম দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা ১৬৫।