জেনারেশন জি বা জেন জিকে বলা হয় সত্যিকারের ডিজিটাল নেটিভ। স্মার্টফোন পকেটে নিয়েই বড় হওয়া এই প্রজন্মের কাছে পুরো দুনিয়ায় আঙুলের গোড়ায়। নানা ধরনের পর্দায় অনেকটা বহুমাত্রিক বাস্তবতায় শৈশব কাটিয়েছেন তারা। প্রযুক্তি তাদের কাছে সুবিধা নয়, মৌলিক চাহিদার শামিল। মোবাইল ইন্টারনেট ও ব্রডব্যান্ড তাদের বিরামহীন বিনোদন ও তথ্যের প্রবাহে যুক্ত করে রেখেছে। যা অনেক ক্ষেত্রেই মনোযোগের ঘাটতি, ধৈর্যের স্বল্পতা ও অল্পতেই উত্তেজনার মতো সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিভিন্ন দেশে অভিবাসনের জোয়ারের ফলে জেন জিরা সত্যিকার অর্থে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অধিকারী। মিলেনিয়াল ডায়াসপোরা যেখানে আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগেছেন, সেখানে জেন জি বৈশ্বিক গ্রামের বাসিন্দা হয়ে উঠতে পেরেছেন। বর্ণ, লৈঙ্গিক, যৌন পরিচয়ের ভিন্নতা ও বহুমাত্রিকতাকে তারা সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং এর পক্ষে সরবও বটে। নিউক্লিয়ার পরিবারের মূল ধারণার বাইরে গিয়ে সম্পর্কের নানান রূপকে নানা আখ্যায় তারা ভূষিত করেন যেমন ব্রেডক্রাম্বিং, টকিং স্টেজ, সিচুয়েশনশিপ। তাদের কাছে যে কোনো বাস্তবতা বাইনারি বা দ্বৈত নয়, ডিসকার্সিভ বা ছড়ানো-ছিটানো। যার ফলে উদ্দেশ্যহীনতাও তাদের কাছে বর্জনীয় নয়।
জেন জিদের গঠনকালে মুখোমুখি হতে হয়েছে কভিড-১৯ মহামারীর। কারও শিক্ষাজীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে, কারও ক্যারিয়ার পড়ে গেছে সীমাহীন অনিশ্চয়তায়। দীর্ঘ ঘরবন্দিত্ব তাদের মানসিক গঠনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করা হয়। বিশেষ করে প্রথাগত চাকরির চেয়ে ফ্রিল্যান্সিং-এ তারা বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। পেশাগত পরিচয় ও সামাজিক
স্বীকৃতির চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে তারা সচেষ্ট। পুঁজিবাদীব্যবস্থায় ক্রয়ক্ষমতার নিরিখে ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান নির্ণয়ের সময়ে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্ম অনেকটাই ‘রাজনীতিবিমুখ’। মহাবয়ান-উত্তর এই কালে কোনো বৃহত্তর মতাদর্শিক অস্তিত্বের সঙ্গে তাদের পরিচয় নেই। ইমেজে নিমগ্ন বিক্ষিপ্ত বাস্তবতায় তাদের বসবাস। প্রতিবাদের ক্ষেত্রেও এই প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি তীব্র অনাস্থার কারণে তারা ভোট দিতে অনাগ্রহী। তবে টাইপ করতে যতটা সময় প্রয়োজন ঠিক ততটা সময়েই তারা যে কোনো অসংগতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। স্বতঃস্ফূর্ততা ও গতি তাদের শক্তি। তবে স্বকীয় অস্তিত্বে বিশ্বাসী এই প্রজন্ম একক নেতৃত্ব মানতে নারাজ। তাদের এই ইতিহাসবিচ্ছিন্নতার সুযোগে ‘আইকনোক্লাজম’ বা লালিত বিশ্বাস-রীতি বা সংস্কার ভঙ্গের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার শঙ্কা থাকে। প্রথাকে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে ‘প্রতিক্রিয়াশীলতা’র অনুপ্রবেশের ফোকরও তৈরি হতে পারে। তবে ডিজিটাল যুগের লড়াকু সৈনিকরা সাম্যের গানে এক হলে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবেন, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে