কোটা সংস্কার আন্দোলন

মায়ের কাছে দোয়া চাওয়াই ছিল সাগরের শেষ কথা 

‘মারা যাওয়ার দিন সকালে আন্দোলনকারী সকলের জন্য দোয়া চেয়েছে আমার বাজান। বাসার আশপাশে অনেক মানুষ মারা গেছে জানিয়ে তাদের জন্যও দোয়া চেয়েছে। কে জানতো ওদের জন্য দোয়া চেয়ে আমার ছেলেটায় চলে যাবে?’ সন্তানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এভাবেই কেঁদে কেঁদে কথাগুলো বলতে থাকেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত সাগর আহম্মেদের মা গোলাপী বেগম।

গত ১৯ জুলাই আন্দোলনে গিয়ে গুলিতে নিহত হন সরকারি বাংলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র সাগর আহম্মেদ (২১)। ইচ্ছে ছিল লেখাপড়া শেষ করে বাবার কষ্ট ঘোঁচাবে, আদরের ছোট বোনসহ বাবা-মাকে ঢাকায় নিয়ে যাবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। 

সাগরের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের টাকাপোড়া গ্রামে। শনিবার (২০ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে টাকাপোড়া ঈদগাঁহ ময়দানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

নিহতের চাচাতো ভাই মো. সাইফুল হোসেন জানান, আমি আর সাগর ঢাকায় একসঙ্গেই থাকতাম। পড়ালেখার পাশাপাশি সাগর ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতো। ঘটনার দিন সকালে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মিরপুর-১০ এ কোটা সংস্কার আন্দোলনে যায়। পরে কেউ একজন জানায়, সাগরের মাথায় গুলি লেগেছে।

নিহত সাগরের বাবা তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘আমার মনি আমাকে বলতো আর কত টাকা নেব তোমার কাছ থেকে? আমার কাছ থেকে টাকা নেওয়ায় সে খুব কষ্ট পেতো। আমার কষ্ট হবে বিধায় আমার ছেলে আমার কথা ভেবে হোটেলে চাকরি পর্যন্ত করেছে। আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আমার জীবনে আর কিছুই বাকি নাই।’

‘সাগর কাউকে ওয়াদা দিলে সেটা পালন করতো। মানবিক কাজ করতো সাগর। সাগরের ইচ্ছা ছিল বিসিএস দেবার। কতো স্বপ্ন দেখতো ছেলেটা আমার। আজ সেই স্বপ্ন স্বপ্নই হয়ে গেলো’- আহাজারি করে বলতে থাকেন সাগরের বাবা।

তোফাজ্জেল হোসেন জানান, আমার কাছে আমার বাবা (সাগর) সবশেষ কথা বলেছিল শুক্রবার আসরের নামাজের পর। টাকা চেয়েছিল, আমি টাকা পাঠিয়ে দিয়ে কল দিলে আর ওর সঙ্গে আমি যোগাযোগ করতে পারিনি।