বগুড়ায় পুলিশ-শিক্ষার্থী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, পুলিশ বক্সে আগুন

বগুড়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সাতমাথার আশপাশের বঙ্গবন্ধুর চারটি ম্যুরাল ভাঙচুর করে ভুয়া লিখে দেন এবং পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন। আজ শনিবার বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টার দিকে বগুড়া শহরের দত্তবাড়ি, জলেশ্বরীতলা, ইয়াকুবিয়া মোড়সহ বিভিন্ন দিক থেকে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সাতমাথায় সমবেত হতে শুরু করেন। শিক্ষার্থীরা পুরো সাতমাথা ও আশপাশের প্রায় ১০০ গজ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সাতমাথা থেকে নবাব বাড়ি সড়কে দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ বাধা দিলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে। শিক্ষার্থীরা কাগজে আগুন দিয়ে টিয়ারশেলের প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষার চেষ্টা করেন।

এদিকে বিকেল সাড়ে ৫টার পর উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা মুজিব মঞ্চের পাশে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে, টেম্পল সড়কে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনের ম্যুরালে, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে ও আওয়ামী লীগ নেতা রনির পুড়িয়ে দেওয়া কক্ষের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ভাঙচুর ও কালো রঙ দিয়ে ভুয়া লিখে দেয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় সাতমাথায় অবস্থিত ট্রাফিক পুলিশ বক্সেও আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের আক্রমণ যমুনার টিভির ক্যামেরাম্যান আব্দুল মোমিন আহত হয়।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইহান ওলিউল্লাহ জানান, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে পুলিশ বাধা দেয়নি। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।