রোলাঁ গারোঁ এবার কার

প্যারিস অলিম্পিকে টেনিস পুরুষ এককের ফাইনালে আজ মুখোমুখি হবেন নোভাক জকোভিচ ও কার্লোস আলকারাজ। অলিম্পিকের টেনিস ইভেন্ট হচ্ছে রোলাঁ গারোঁতে। জকোভিচের সামনে অলিম্পিকে টেনিস ইভেন্টে স্বর্ণ জেতার শেষ সুযোগ এটি বললে ভুল হবে না। কারণটা তার বয়স। ৩৭ বছরের সার্বিয়ান এই কিংবদন্তি ২৪ গ্র্যান্ড সøাম জিতলেও অলিম্পিকে সর্বোচ্চ সাফল্য পাননি। ব্রোঞ্জ জেতেন ২০০৮ অলিম্পিকে।

এ বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে হাঁটুর ইনজুরির কারণে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন জকোভিচ। আর টুর্নামেন্ট জিতেছিলেন আলকারাজ। পরে উইম্বলডনের ফাইনালে মুখোমুখি হন এই দুজন। সেই ফাইনালে আলকারাজ হারান জকোভিচকে। মঞ্চটা রোলাঁ গারোঁ বলেই এবার লড়াই হতে পারে হাড্ডাহাড্ডি। আলকারাজ এবারের ফ্রেঞ্চ ওপেনজয়ী তো জকোভিচ গেলবারের চ্যাম্পিয়ন। ২০২৩ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের পথে সেমিফাইনালে আলকারাজকে হারিয়েছিলেন এই সার্বিয়ান।

অলিম্পিকের সেমিফাইনালে শুক্রবার রাতে জকোভিচ ৬-৪, ৬-২ গেমে হারান ইতালির লরেঞ্জো মুসেত্তিকে। এর আগে আলকারাজ ৬-১, ৬-১-এ হারান কানাডার ফেলিক্স অগার আলিয়াসিমকে। এই দুজন ফাইনালে উঠতেও হয়েছে ভিন্ন এক রেকর্ড। অলিম্পিকের ফাইনালে ওঠা সবচেয়ে বয়স্ক টেনিস খেলোয়াড় জকোভিচ এবং সবচেয়ে তরুণ খেলোয়াড় আলকারাজ।

আলকারাজ যদি জিততে পারেন, তবে অলিম্পিকের টেনিস ইভেন্টে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে স্বর্ণ জিতবেন ২১ বছরের এই স্প্যানিশ। এর আগে অলিম্পিকে সবচেয়ে কম বয়সে টেনিস স্বর্ণ জিতেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভিনসেন্ট রিচার্ড। রিচার্ডের চেয়ে এক মাস কম বয়সে কীর্তি গড়বেন তিনি।

জকোভিচ বলেন, ‘আমি এর জন্য ২০ বছর ধরে অপেক্ষা করছি। এর আগে চারটি অলিম্পিক খেলেছি, এবার পঞ্চম এবং এর আগে সেমিফাইনালের গন্ডি পেরোতে পারিনি। এবার পেরেছি মানে বড় বাধা অতিক্রম করলাম। জয়ের পর আগের তিন সেমিফাইনাল হারের কথা মনে পড়ছিল।’ জকোভিচ আজ স্বর্ণ জিততে পারলে ১৩তম খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন স্ল্যাম (চার গ্র্যান্ড স্ল্যাম ও অলিম্পিকে স্বর্ণ) জয়ের কীর্তি গড়বেন।

তিনবারের গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী আলকারাজের সামনেও প্রথমবার পদক জয়ের সুযোগ। এ বছর টানা দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম (ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডন) জেতেন। তার সামনেও দারুণ এক কীর্তি গড়ার সুযোগ।

একই বছরে ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইন্বলডন ও অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের কীর্তি আছে কেবল রাফায়েল নাদাল ও স্টেফি গ্রাফের। তাদের পাশে বসার সুযোগ পাচ্ছেন আলকারাজ। ‘টেনিসের দুই কিংবদন্তি (যে কীর্তি গড়েছেন) আমি তা করার চেষ্টা করব, তবে পরিসংখ্যান মাথায় রাখব না। আমাকে ম্যাচে ভালো শুরু পেতে হবে, প্রতিটি পয়েন্টে ফোকাস করতে হবে।’ বলেছেন আলকারাজ।

জকোভিচ ও আলাকারাজ এর আগে ছয়বার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনবার করে জয় দুজনেরই। সপ্তম লড়াইটা যিনি জিতবেন তার গলায় উঠবে অলিম্পিক সোনার পদক।