ঢাকার সাভারে পুলিশের গুলিতে দুই জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সাংবাদিকসহ গুলিবিদ্ধ হয়েছে অন্তত ১০ জন। এদের মধ্যে ৪ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।
সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিউটি অফিসার ইউসুফ আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১ টায় সাভার পৌর এলাকার জালেশ্বর মহল্লায় মাছরাঙা টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি সৈয়দ হাসিবকে গুলি করেছে পুলিশ। এসময় আরও বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
ভুক্তভোগী সৈয়দ হাসিব বলেন, “আমি বাসা থেকে বের হয়ে স্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলাম। রাস্তায় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিচ্ছিল। একজন পুলিশ আমাকে জিজ্ঞেস করল আপনি কোথায় যাচ্ছেন। আমার হাতে মাইক্রোফোন এবং গলায় আইডি কার্ড দেখিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দেই। এসময় সে পুলিশের গাড়িতে বসে থাকা উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে জানায় আমি মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিক। পরিচয় জানার পরও উর্দ্ধতন ওই কর্মকর্তা গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপরই আমার বুকে গুলি চালানো হয়েছে।”
এদিকে সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ঢাকা আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে দুপুর ১টায় তারা মিছিল নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য রওয়ানা হয়। দুপুর ২টায় তারা সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছলে পুলিশের বাঁধার মুখে পরে। এসময় সড়ক থেকে সড়াতে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও ছড়া গুলি করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেয় আমাদের উপর গুলি ছুড়ে। এছাড়া সরকারি দলের নেতারা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে মিছিলে গুলি ছুড়েছে। এই মুহূর্তে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন শাখা সড়কে অবস্থান নিয়ে পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করছে।
অন্যদিকে আশুলিয়ার বাইপাইল, জামগড়া ও ইপিজেডসহ আশপাশের এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।