অবশেষে স্বর্ণ কেলির

পুরনো গাড়ির প্রতি বিশেষ টান রয়েছে ব্রিটিশ দৌড়বিদ কেলি হজকিনসনের। এবার অলিম্পিকে আসার আগে পিন্টারেস্টে এমনই একটি গাড়ি পছন্দ করে রেখেছিলেন। প্রেষণা দেওয়ার জন্য ঠিক করে রেখেছিলেন স্বর্ণ জিততে পারলে তবেই গাড়িটি উপহার দেবেন নিজেকে। তবে তা সত্যি হয়ে যাবে তা হয়তো কেলি নিজেই ভাবতে পারেননি। নারীদের ৮০০ মিটার দৌড়ে ২০২১ টোকিও অলিম্পিক, ২০২২ ইউজিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০২২ কমনওয়েলথ গেমস ও ২০২৩ বুদাপেস্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্য জিতেছিলেন তিনি। এতদিন পরে এসে সোনালি স্বপ্ন পূর্ণ হলো কেলির। প্যারিস অলিম্পিক সুযোগ করে দিয়েছে কেলিকে সবচেয়ে উঁচু পোডিয়ামটিতে দাঁড়াবার।

মাত্র ১ মিনিট ৫৬.৭২ সেকেন্ড সময়ে পৌঁছেছেন মেয়েদের ৮০০ মিটার দৌড়ের ফিনিশিং লাইনে। ১ মিনিট ৫৭.১৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে রৌপ্য জিতেছেন ইথিওপিয়ার সিগে দুগুমা। ব্রোঞ্জ পেয়েছেন কেনিয়ার মেরি মোরা। তিনি সময় নেন ১ মিনিট ৫৭.৪২ সেকেন্ড। ২০০৪ অ্যাথেন্স অলিম্পিকে ৮০০ মিটার দৌড়ের নারীদের এ ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছিল ব্রিটেন। সেবার জিতেছিলেন কেলি হোমস। আবার বছর কুড়ি পর ব্রিটেনকে শ্রেষ্ঠত্ব এনে দিলেন কেলি হজকিনসন।

কিছুটা দেরিতে স্বর্ণ জেতা কেলি হজকিনসনের একটি বদঅভ্যাসও রয়েছে। আর সেটি হলো এই ‘কিছুটা দেরি করা’। এটি অবশ্য জানা গেছে কেলির কোচদের কাছ থেকে। ৮০০ মিটারে সাবেক ব্রিটিশ দৌড়বিদ জেনি মিডোজ ও তার স্বামী ট্রেভর পেইন্টার দুজন মিলে কোচিং দেন কেলিকে। অবশেষে শিষ্যের স্বর্ণ জেতায় স্বভাতই উচ্ছ্বসিত পেইন্টার বলেছেন, ‘কখনো কখনো সে হয়তো ২০ থেকে ২৫ মিনিট দেরি করে, তারপর মুচকি হাসি দিয়ে হেঁটে চলে যাবে। কিন্তু আমরা যদি তাকে ধরে রাখি, একটি বক্সে রেখে বলি তাকে এটার আকার নিতে হবে, তাহলে সে ওই মানুষটা হবে না যাকে আমরা ১ মিনিট ৫৪.৬১ সেকেন্ডে দৌড়াতে দেখেছি। সে এখন যা সেটা তার মুক্ত চেতনার স্বভাবের জন্য।’

ছোটবেলায় কানে টিউমার হয়েছিল কেলির। সেটি ক্যানসার সংক্রমিত হয়ে যাওয়ায় শঙ্কা ছিল কখনো হয়তো হাঁটতে পারবেন না। ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই স্পোর্টসকে বলা কথায় উঠে আসে কেলির সেই গল্প, ‘হাঁটতে পারতাম না। এটা একটু অদ্ভুত। কারণ সমস্যাটা ছিল কানে। তবে সৌভাগ্যবশত সব পরিকল্পনা অনুযায়ীই হয়েছে। ওটা নির্মূল করা হয় এবং আমি তাতে কানে কম শোনা শুরু করি। সেটা অবশ্য মন্দ না।’ ওই ঘটনার পর ৯৫ শতাংশ শোনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন কেলি। ছোটবেলায় সাঁতারু হতে চাওয়া কেলির দৌড়ে নাম লেখানো বাবার সুবাদে। এবার এসে বাবা-মাকেও খুশি করলেন কেলি।