মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাতের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল থেকে এ পর্যন্ত শিশুসহ ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ২২ জন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দুটি নৌকায় করে মিয়ানমারের এই রোহিঙ্গারা টেকনাফের উদ্দেশ্যে আসছিল। এসব নৌকায় অন্তত ৪০ জন ছিল।
নিহতের মধ্যে ৮ শিশু, ৭ নারী ও ৩ জন পুরুষ রয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে দুজনকে।
টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রশিদ মিয়া বলেন, মিয়ানমার থেকে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আসার সময় টেকনাফে সাগরে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। হাবিরছড়া ও রাজারছড়া এবং সাবরাং নোয়াখালীয়া পাড়া ও শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় দুটি নৌকা ডুবে যায়। তিনি জানান, তাদের ইউনিয়নে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসারে ক্যাম্পে থাকা স্বজনদের কাছে নিহতদের মরদেহগুলো হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আরও কিছু রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। যারা বিজিবি হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত দুদিনে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অন্তত কয়েক হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, নৌকায় করে টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের অনেকেই কৌশলে ক্যাম্পে প্রবেশ করেছে। বিজিবি সদস্যরা কিছু সংখ্যককে আটক করতে পেরেছে।