থাইল্যান্ডে নির্বাচনে জয়ী দলকে বিলুপ্ত করল আদালত

থাইল্যান্ডের একটি আদালত গত বছরের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন ও ভোট পাওয়া সংস্কারপন্থী দলকে বিলুপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের রায়ে মুভ ফরোয়ার্ডের সাবেক তরুণ নেতা পিটা লিমজারোয়েনরাট এবং আরও ১০ জ্যেষ্ঠ নেতাকে ১০ বছরের জন্য রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রাজকীয় মানহানি আইন পরিবর্তনের জন্য মুভ ফরোয়ার্ডের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অসাংবিধানিক বলে জানুয়ারিতে রায় দেওয়ার পরে সাংবিধানিক আদালত এই রায় দেয়। আদালত বলছে, মানহানি আইনে পরিবর্তন সাংবিধানিক রাজতন্ত্রকে ধ্বংসের আহ্বান জানানোর শামিল।

বুধবারের রায় আবারও মনে করিয়ে দেয় যে অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো রাজতন্ত্রের ক্ষমতা ও মর্যাদা রক্ষায় কতদূর যেতে ইচ্ছুক। তবে এই রায়ের অর্থ থাই রাজনীতিতে সংস্কারবাদী আন্দোলনের অবসান নয়।

মুভ ফরোয়ার্ডের ১৪২ এমপি অন্য নিবন্ধিত দলে স্থানান্তরিত হবেন এবং সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ‘একটা নতুন যাত্রা শুরু হলো। আসুন আমরা একসাথে হাঁটতে থাকি, জনগণ’, দলটি তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভিডিওসহ একটি বার্তায় বলেছে।

রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ একজন সংসদ সদস্য চাইথাওয়াত তুলাথন তার সহকর্মীদের বিদায় জানিয়ে বলেন, তাদের সঙ্গে কাজ করা একটি ‘সম্মানের’ বিষয়।

চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক থিতিনান পংসুধিরাক বলেন, এই রায় থাইল্যান্ড একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র নাকি নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। এটি ‘একদিকে দেজা ভু, এবং অন্যদিকে অচিহ্নিত অঞ্চল’।

চার বছর আগের এই রায় নতুন প্রজন্মের ছাত্র কর্মীদের নেতৃত্বে রাস্তায় বিশাল বিক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। যা ছয় মাস ধরে চলে এবং রাজতন্ত্রকে আরও জবাবদিহি করার জন্য দাবি জানিয়েছিল।

কর্তৃপক্ষ তখন থেকে মুভ ফরোয়ার্ড এমপিসহ শত শত বিক্ষোভকারী নেতাদের বিচারের জন্য মানহানি আইনের ব্যাপক ব্যবহার করেছে। থাইল্যান্ডে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করার জন্য আইনটি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে।