হার্ভার্ড থেকে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন গ্যাবি

গ্যাব্রিয়েল থমাস, সংক্ষেপে গ্যাবি। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউরো-বায়োলজিতে পড়াশোনা শেষ করা গ্যাবি এবার গলায় পরলেন অলিম্পিক স্বর্ণপদক। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে মর্যাদার ইভেন্ট নারীদের ২০০ মিটার দৌড়ে দ্রুততম মানবী জুলিয়েন আলফ্রেডকে পেছনে ফেলে ফিনিশিং লাইন ছোঁন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাথলেট গ্যাবি।

মঙ্গলবার স্তাদে দে ফ্রান্সে হাফ ল্যাপ সম্পন্ন করতে ২১.৮৩ সেকেন্ড সময় নেন গ্যাবি। ১০০ মিটার স্প্রিন্ট জিতে তাক লাগিয়ে দেওয়া সেন্ট লুসিয়ার জুলিয়েন আলফ্রেড ২২.০৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে জেতেন রৌপ্য। ২২.২০ সেকেন্ড টাইমিংয়ে আরেক মার্কিনি ব্রিটানি ব্রাউন জেতেন ব্রোঞ্জ। সেমিফাইনালেও সবচেয়ে কম সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেছিলেন গ্যাব্রিয়েল। গত টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন তিনি।

২৭ বছর বয়সী এ অ্যাথলেট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে অবস্থিত মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউরো-বায়োলজিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য ও অতিমারীর ওপর এক বছরে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন গ্যাব্রিয়েল। পড়াশোনার পাশাপাশিই অ্যাথলেটিকস চালিয়ে যেতেন তিনি। আর মনে করতেন এই অ্যাথলেটিকস তার লেখাপড়ার পথে একটি ব্যাঘাত। তবে গ্যাবির মা জেনিফার র‌্যানড্যাল সবসময়ই মেয়েকে উদ্বুদ্ধ করে গেছেন ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে লেগে থাকতে। পেশায় মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক র‌্যানড্যাল কখনোই লেখাপড়া নিয়ে ছাড় দেওয়ার মানুষ নন।

গত এপ্রিলে নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রবন্ধ থেকে এ বিষয়ে জানা গেছে বেশ মজার তথ্য। টোকিও অলিম্পিক থেকে দুটি পদক জয়ের পর আনন্দিত গ্যাবি মাকে জানান, ‘মা আমি দুটি পদক জিতেছি’। জবাবে র‌্যানড্যাল বলেছিলেন, ‘এটা দারুণ সংবাদ। ক্লাস শুরু হবে কবে থেকে?’। গত বছর বুদাপেস্টে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্য জেতার এক বছর পর এসে স্বর্ণ জেতার আনন্দে ভাসলেন গ্যাব্রিয়েল।

যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের জনপ্রিয় খেলা সকারের মাঠে নিজের গতি সম্পর্কে প্রথম ধারণা পেয়েছিলেন গ্যাবি। দৌড়ে নাম লেখানোর আগে বাস্কেটবল, লং জাম্প এমনকি ট্রিপল জাম্পের অঙ্গন থেকেও ঘুরে এসেছেন তিনি। টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জেতার পর এবার সোনালি পদকটিকেই পাখির চোখ করেছিলেন গ্যাব্রিয়েল। মঙ্গলবার সবার ফিনিশিং লাইন পেরোনোর পর চোখের অশ্রু আটকে রাখতে পারেননি। দুহাত মাথার ওপরে রেখে চোখের জলেই মুহূর্তটিকে নিজের করে নেন গ্যাবি। আর তার এই প্রতিক্রিয়াকে বিবেচনা করা হচ্ছে এবারের অলিম্পিকে স্বর্ণজেতা অ্যাথলেটদের মধ্যে সেরা অনুভূতি প্রকাশ করার মুহূর্ত হিসেবে। অবশ্য এখানেই শেষ নয়, টোকিওতে রৌপ্য জেতা গ্যাব্রিয়েল থমাসের দল বৃহস্পতিবার ট্র্যাকে নামবেন ৪ গুণন ১০০ মিটার রিলেতে শ্রেষ্ঠত্বের আশায়।