ভাবতে পারিনি এমন সময় আসবে

কাজী নওশাবা আহমেদ। অভিনয় করেন ছোট ও বড় পর্দায়।  শিক্ষার্থীদের অধিকারে সবসময় কথা বলেন তিনি। ২০১৮ সালে সড়ক আন্দোলনে কথা বলে আটক হয়েছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এই অভিনেত্রীর মুখোমুখি হয়েছিলেন মাহতাব হোসেন

যে দেশটা নতুনভাবে শুরু হলো এটা এখনো শিশু। একটি শিশু যখন জন্ম নেয়, তখন তার যতœ নিতে হয়। এখন সময়টা আমাদের যতœ নেওয়ার। দেশটাকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে এখন আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে। এখন আমাদের যে জিনিসটা সবার আগে প্রয়োজন তা হলো আস্থা। এর আগে আমরা বিশ্বাস হারিয়েছি। আমাদের জয়টা সেই হারানো বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এখন আমাদের দেখতে হবে আমাদের সেই বিশ্বাস ফিরে এসেছে, সেই আস্থাটা ফিরে এসেছে, তাহলেই সুন্দরভাবে নতুন শিশু বড় হবে।

সব মানুষ যেন খেতে পায়

আমাদের দেশে অনেক মানুষের অনেক টাকা-পয়সা। আবার কিছু মানুষের দিন আনি দিন খাই অবস্থা এমন মানুষ আমাদের দেশে অনেক। আমি এই জায়গা থেকে বলতে চাই, আমরা অনেকে শিল্পী শিল্পী সমাজ বলে চিৎকার করি। আমরাও কিন্তু সংখ্যালঘু। আমরা যারা অভিনয় করি শুধু তারাই কিন্তু শিল্পী নই, এই সমাজে আরও অনেকেই বসবাস করে। টেকনিশিয়ানরা আছে, প্রোডাকশনের লোকেরা আছে। তারা কিন্তু দিন আনে দিন খায়। তাদের কাজ বন্ধ থাকলে খাওয়া বন্ধ। তার মানে মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত তারা। এই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

বাকস্বাধীনতা

আমরা যে জায়গাটায় সবচেয়ে বেশি ভুগছিলাম তা হলো বাকস্বাধীনতা। আমরা কথা বলতে পারছিলাম না। আমাদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছিল না, বলতে গিয়েও আমরা কথা গিলে ফেলি। লিখি ডট ডট ডট...। ২০১৮ সালের পর আমি ভেবেছিলাম আসলেই কি এমন সময় আসবে যে, আমরা কথা বলতে পারব? আসলেই কি এমন সময় আসবে? ভাবতে পারিনি। যখন সরকারের পতন হলো, তখন অনেক ফোন এসেছে। কিন্তু এসব নিয়ে আমি মাথা ঘামাইনি। শুধু আমরা চেয়েছিলাম কথা বলতে। আমাদের চারপাশে তৈরি হয়েছিল ভয়ের সংস্কৃতি। সেটা ভেঙে গেছে। সেই যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করেছি।

নৈরাজ্য

সরকার পতনের পর দেখছি সারা দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে, নির্যাতন হচ্ছে, ভাঙচুর হচ্ছে। এটাই আমরা চেয়েছিলাম? অনেকেই আতঙ্কে আছে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছাড়ছে। এসব দেখে খুবই কষ্ট লাগছে। আমরা তো এমনটা চাইনি। কেন মানুষে মানুষে হানাহানি হবে, মানুষ মানুষকে মারবে। তাহলে আমরা স্বৈরাচারের চেয়ে কম কীসে? আমি অনুরোধ করব প্রতিটা সেক্টরে, প্রতিটা ক্ষেত্রে এমন ঘটনা দেখলেই রুখে দাঁড়ান। যারাই এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সব ধর্মের মানুষের দেশ এই বাংলাদেশ। কেউ যেন কষ্ট না পায়, হামলার শিকার না হয়। সেটা নিশ্চিত করতে হবে আমাদের।

চলচ্চিত্রের স্বাধীনতা

অবশ্যই চলচ্চিত্রের স্বাধীনতা প্রয়োজন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমরা যা ইচ্ছে একটা বানিয়ে চালিয়ে দেব। চলচ্চিত্রের স্বাধীনতা যেমন দরকার, তেমনই মনিটর করাও প্রয়োজন। না হলে চলচ্চিত্রের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, নৈরাজ্য তৈরি হবে। আমাকে সেন্সর বোর্ড পছন্দ করে না, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সেন্সর বোর্ড প্রয়োজন নেই এটা বলব। ইদানীং ওটিটিতে দেখি শুধু খুন হত্যা, গুলি, মারমারি এসব ছাড়া কন্টেন্ট কম, প্রচুর ক্রাইম। এসব দেখতে দেখতে তো মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়। এসবে নজরদারি নেই দেখেই এমন অবস্থা হয়।