মিছিলে গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী মিরাজের মৃত্যু

ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মিরাজ খাঁন (২০) নামে এক শিক্ষার্থীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মিরাজ লালমনিরহাটের মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়ে কলেজে ভর্তি হয়ে ঢাকায় গার্মেন্টস এ কাজ করতে যান। মিরাজ উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের খাঁনপাড়া এলাকার আব্দুস সালামের পুত্র।

এলাকাবাসী জানায়, আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য পড়াশোনা তেমন করতে না পেরে কলেজে ভর্তি হয়ে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টস এ কাজ করত মিরাজ। ছাত্রত্বের টানে ঢাকার যাত্রাবাড়িতে কোটাবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেন তিনি। গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে মিছিল চলাকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয় মিরাজ। খবর পেয়ে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা প্রথমে যাত্রাবাড়িতে একটি ক্লিনিকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশন করানোর চেষ্টা করেও চিকিৎসকের দেখা না পাওয়ায় মঙ্গলবার সকালে রংপুর মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে গত বুধবার অপারেশন সম্পন্ন হয় মিরাজের।

মহিষখোচা এলাকার ফিরোজ হোসেন বলেন, খুবই ভালো ছিল মিরাজ। ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিল। কিন্তু দুর্বৃত্তের গুলি তার জীবনকে শেষ করে দিল।

মিরাজের ছোট ভাই রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ঢাকায় ঠিকমতো চিকিৎসা না পেয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। গত বুধবার অপারেশন হলেও আমার ভাইকে বাঁচানো যায়নি।’

মিরাজের বাবা আব্দুস সালাম পুত্রকে হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি তার শহীদ পুত্রের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ উন-নবী বলেন, মিরাজের গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি। তার পরিবারের সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, মিরাজের মারা যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি।