বাড়ছে চার নদীর পানি, বন্যার আশঙ্কা

গাইবান্ধায় কয়েক দিনের বৃষ্টি আর উজানের ঢলে প্রধান চার নদ-নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে পানি বাড়লেও জেলার সব নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা পাউবোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহ ধরে ধীর গতিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার ও করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুর পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বুধবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল  ৯টা পর্যন্ত এই পরিমাণ পানি বৃদ্ধি পায়। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী রায়হানুল ইসলাম বলেন, ‘উজান থেকে পানি আসছে এবং গত কয়েক দিন থেকে বৃষ্টিতে জেলার সব নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। তিস্তা, করতোয়া, ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি  বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আমরা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছি।’

এদিকে জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা নদী। নদীর পানি বাড়ায় তারাপুর, হরিপুর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে ফের পানি ঢোকার শঙ্কায় আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে। চরের নিম্নাঞ্চলে আবারও পানিবন্দী হওয়ার শঙ্কা করছে মানুষ।

হরিপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ‘মাত্রই বাড়ি থেকে পানি নেমে গেল। বন্যার ক্ষতি এখনো কাটেনি। তাতেই আবার নদীর পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন ইঞ্চি করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার বন্যা হলে না খেয়ে মরতে হবে।’

এদিকে রংপুরের আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি-বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।