প্যারিস অলিম্পিকের ছেলেদের জ্যাভলিনে সোনা জয়ের ব্যাপারে নীরজ চোপড়াকে নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী ছিল ভারত। কারণ তিনি টোকিও অলিম্পিকে সোনা জিতেছিলেন। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন ভঙ্গ করে এই ইভেন্টে সোনা জিতে নেন পাকিস্তানের আরশাদ নাদিম। রূপা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় নীরজকে। অলিম্পিকে সোনা জয়ের পর বেশ আলোচনায় এসেছেন পাকিস্তানের এই অ্যাথলেট।
অথচ, এই সোনা জয়ের জন্য কতই না কষ্ট করতে হয়েছে নাদিমকে। সরকার বা প্রতিষ্ঠানের কোনো সহায়তা পাননি বললেই চলে। এই লড়াইয়ে তার পাশে দাঁড়ায় পুরো গ্রাম। একটা জ্যাভলিন কেনার টাকাও ছিল না নাদিমের! তার বাবা মোহাম্মদ আশরাফ জানিয়েছেন, গ্রামের লোকজন টাকা তুলে নাদিমকে তার পছন্দের জ্যাভলিন কিনতে সহায়তা করেছেন, যার প্রতিদানও দিয়েছেন নাদিম।
প্যারিসে ৯২.৯৭ মিটার পেরিয়ে সোনা জয়ের পাশাপাশি গড়েছেন নতুন অলিম্পিক রেকর্ড। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে নরওয়ের আন্দ্রেয়াস থরকিল্ডসেনের (৯০.৫৭ মিটার) রেকর্ড ভেঙ্গে গেছে। টোকিও অলিম্পিকে ৮৪.৬২ মিটার ছুড়ে পঞ্চম স্থানে শেষ করেছিলেন নাদিম। পরের তিন বছর তিনি অনেক উন্নতি করেন, যার প্রতিফলন ঘটেছে প্যারিসে।
ভারতের নীরজের সঙ্গে তুলনা করলে নাদিমের উন্নতির গ্রাফটা বোঝা যায়। নীরজ বারবার বলেছেন, তার লক্ষ্য ৯০ মিটার। কিন্তু নাদিমের লক্ষ্য ছিল আরও দূরে। টোকিও অলিম্পিকে ৮৭.৫৮ মিটার জ্যাভলিন ছুড়ে সোনা জেতা নীরজ প্যারিসে ছুড়েছেন ৮৯.৪৫ মিটার। কিন্তু গত তিন বছরে নীরজ কখনও ৯০ মিটার পার করতে পারেননি। অন্যদিকে ২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ৯০.১৮ মিটার ছুড়ে সোনা জিতেছিলেন নাদিম।
নীরজের পেছনে ভারত কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও নাদিমের সেই সৌভাগ্য হয়নি। এবার অলিম্পিকে রেকর্ড গড়েই থেমে থাকতে চান না এই পাকিস্তানি অ্যাথলেট। তিনি ইতোমধ্যেই নতুন লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেছেন। নাদিমের ভাষায়, ‘এখানে সোনা জিতে আমি খুশি। এই অর্জনের নেপথ্যে আছেন আমার কোচ, নাহলে এটা সম্ভব হতো না। এবার আমি আরও পরিশ্রম করব। আমার লক্ষ্য ৯৫ মিটার।’
অন্যদিকে নাদিমের বাবা মোহাম্মদ আশরাফ শুনিয়েছেন, তার ছেলে কতটা কষ্ট করে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন, ‘মানুষ জানে না নাদিম কীভাবে আজ এই জায়গায় এসেছে। ওর সহকর্মী, গ্রামবাসী এবং আত্মীয়রা টাকা সংগ্রহ করে দিয়েছিল। তাদের সাহায্যেই নাদিম যাতে নাদিম প্রশিক্ষণ নিতে পেরেছে। বিভিন্ন টুর্নামেন্ট খেলতে অন্য শহরে যাওয়ার খরচও গ্রামবাসী জোগার করে দিয়েছিল।’