আত্মগোপনে সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামালের সিন্ডিকেট

২০০৮ সাল থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলা) আসনের এমপি ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল)। অভিযোগ উঠেছে, তার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে ৫ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট। তারা হলেন- সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালু, এপিএস রতন সিংহ, পৌর মেয়র আব্দুল মালেক, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ভূইয়া ও সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সুমন।

গত ১৬ বছর ধরে এ সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি ছিল পুরো উপজেলা। ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে প্রতিটি দলীয় কমিটি হতো তাদের ইশারায়। টাকার অংক যার দিকে বেশি হতো, সেই হতেন চেয়ারম্যান, মেম্বার ও পেতেন দলীয় পদ। আবার উপজেলা উন্নয়ন কমিটিতেও ছিলেন তারা। যার ফলে প্রতিটি দপ্তর চলতো তাদের ইশারায়। এডিবি, টিয়ার ও কাবিখা বরাদ্দ দিতেন নিজেদের পছন্দের লোকদের। এসব বরাদ্দের কাজ থেকে ৩০ ভাগ টাকা কেটে নিতেন। ওই সব টাকা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাগবাটোয়ারা করা হতো।

জানা যায়, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের কয়েকদিন আগেই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন কালু আমেরিকায় পাড়ি জমান। আর শেখ হাসিনার পদত্যাগের দিন আত্মগোপনে চলে যায় পৌর মেয়র আব্দুল মালেক, ভাইস চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ভূইয়া ও আব্দুল রাজ্জাক সুমন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, গত ১৫ বছর অবহেলিত ছিলাম আমরা। নামে-বেনামে বরাদ্দ দিয়ে লাখ লাখ টাকা লুটপাট করে নিয়েছে এ সিন্ডিকেট। সামছুউদ্দিন কালু ৪-৫ কোটি কাটা খরচ করে আলিশান বাড়ি করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি করেন। তার নামে কুমিল্লায়, ঢাকায় ফ্ল্যাট রয়েছে। মেয়র আব্দুল মালেক পৌর বাজারের সরকারি জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করেন। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জায়গা দখল করেন। যদিও এক সময় তার কোনো সম্পত্তি ছিল না। বর্তমানে ৫ তলা আলিশান বাড়িসহ মালয়েশিয়া ও দুবাইতে গাড়ির ব্যবসা রয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ভূইয়া ও আব্দুল রাজ্জাক সুমন তাদের কম নয়। ঢাকা-চট্টগ্রামে বাড়িসহ অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এপিএস রতন সিংহ নাঙ্গলকোট থেকে টাকা নিয়ে কলকাতা ৫টি বাড়ি করেন। কর্মীদের বিপদে রেখে বর্তমানে ওই সিন্ডিকেট নেতারা আত্মগোপনে রয়েছে।

তারা আরও বলেন, প্রতিটি চেয়ারম্যান থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলে ৩০-৪০ লাখ টাকা করে নিতেন তারা। ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে সকল কমিটির থেকেও টাকা নিয়েছেন তারা। পাশাপাশি প্রাইমারি, হাইস্কুল ও মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি হয়ে চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী নিয়োগে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে নিতেন তারা।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগের কয়েকদিন আগে আ হ ম মুস্তফা কামাল তার পরিবার নিয়ে দুবাই চলে যান বলে জানান ক্ষুব্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।