সালাউদ্দিন-কিরণ উধাও; বন্ধ নারী ফুটবলারদের ক্যাম্প

ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর পরবর্তী কয়েকদিন সারা দেশব্যাপী চলেছে নাশকতা। আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে দেশ। এর মধ্যেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে নারী ফুটবল দলের ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। মেয়েদের অনিরাপদ রেখে বাফুফের কর্তারা ঘরে বসে থেকেছেন।

এ নিয়ে সংবাদ প্রচারের পর বাফুফে জানিয়েছিল অক্টোবরের সাফকে সামনে রেখে মেয়েদের ক্যাম্প বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা। এর মধ্যেই ধীরে ধীরে দেশ অস্থিতিশীলতা থেকে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এর মধ্যে ক্যাম্প না সরিয়ে বাফুফে হুট করেই বন্ধ করে দিয়েছে মেয়েদের অনুশীলন। ফুটবলারদের দেওয়া হয়েছে ১০ দিনের লম্বা ছুটি। সাফের আগে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ছুটি দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আসছে সাফে পারফরম্যান্স নিয়ে উঠে গেছে প্রশ্ন।

বাফুফের কর্তাদের দাবি, মেয়েদের অনুরোধের কারণেই লম্বা ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছেন। রবিবার বাফুফে ভবনের সামনে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ও নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তারের পদত্যাগের দাবিতে ‘মার্চ টু বাফুফে’ কর্মসূচী পালন করে সমর্থকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশী ফুটবল আলট্রাস’।

বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করতে এসে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার মেয়েদের অনুরোধের বিষয়টিকেই সামনে টেনে আনলেন, ‘আসলে মেয়েরা একটা ব্রেক চাইছে। সামনে যেহেতু খেলা। আমরা ওদের অনুরোধের কারণেই শনিবার ছুটি দিয়েছিলাম। বলেছিলাম চলে যাও। যাতায়াতসহ সব অ্যারঞ্জে করে দিচ্ছি। তখন মেয়েরাই বলেছে সমর্থকদের এই কর্মসূচির মধ্যে তারা যেতে চায় না।’

জানা গেছে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ বাফুফের নির্বাচিত সদস্যরা সেভাবে বাফুফে মূখী হননি। ক্যাম্প চলমান থাকলেও মেয়েদের দেখভালের জন্যও নারী কমিটির কাউকে দেখা যায়নি। এদিকে নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণকেও পাওয়া যাচ্ছে না। তার ফোন খোলা থাকলেও তিনি ফোন ধরছেন না। ফলে সাফকে সামনে রেখে মেয়েদের ক্যাম্প ফের কবে শুরু হবে- এ সম্পর্কে পরিস্কার কোনো ধারণা মেলেনি।

এদিকে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের চার খেলোয়াড়- সাবিনা খাতুন, মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমা ও ঋতুপূর্ণা চাকমা আজ ভুটান যাচ্ছেন এএফসি ওমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে। এই চারজনকে দলে নিয়েছে রয়্যাল থিম্পু কলেজ ফুটবল দল।