সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে যেতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর আন্দোলন

আন্দোলনের ঢেউ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতেও। ১২ দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে দেশের চার হাজার নিরাপত্তা কর্মী। আজ রবিবার দেশের সর্বত্র নিরাপত্তা কর্মীরা মিছিল ও কর্মবিরতি পালন করেছে।

রেলওয়ে সম্পদ পাহাড়া ও রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্বে নিয়োজিত এই সংস্থাটি ১৯৭৬ সাল থেকেই কাজ করে আসছে। এখন তারা বৈষম্যের প্রতিবাদে ১২ দফা নিয়ে কর্মবিরতি পালন করছে।

কর্মবিরতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ক সাদ্দাম হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ আমরা সশস্ত্র বাহিনীর আদলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনী। তাই ঝুঁকি ভাতা, রেশন, বেতন স্কেলসহ তাদের সকল সুযোগ সুবিধা আমাদের দিতে হবে। এছাড়া আমাদের ব্যারাক স্থাপন ও আট ঘন্টার বেশি চাকরি হলে ওভারটাইম চালু করতে হবে।’

আজ রবিবার চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আরো জানায়, আমাদের নিজস্ব অস্ত্রাগার রয়েছে। এই অস্ত্রাগার রক্ষনাবেক্ষণও আমরাই করি। এছাড়া আইনেও রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর আওতায় আমাদের ন্যাস্ত করতে হবে। কিন্তু তা করা হচ্ছে না।

এদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার শাহাদাত আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকের সাথে দেখা করেছেন এবং কিছু দাবি দাওয়া উত্থাপন করেছে বলে শুনেছি। তাদের দাবিগুলো রেলওয়ের মধ্যে যেসব রয়েছে আমরা তা সমাধান করার চেষ্টা করবো।

কিন্তু তারা তো রেলওয়ের পরিবর্তে সশস্ত্র বাহিনীর আওতায় যেতে চায়। এমন দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে সরদার শাহাদাত আলী বলেন, ‘এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে আমাদের আওতায় যেসব দাবি দাওয়া রয়েছে সেগুলো আগে সমাধানের চেষ্টা করবো। ’

রেলওয়ের বিশাল এলাকা পাহাড়া দিয়ে থাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এখন কর্মবিরতি পালন করলে অরক্ষিত হয়ে যাবে রেলওয়ে স্থাপনা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা ইউনিফর্ম পড়ে সোমবার সকালে কাজে যোগ দেবো। যদি দাবি মেনে নেয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের অগ্রগতি দেখা যায় তাহলে সাতদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে আমরা কাজ করবো। আর যদি অগ্রগতি বা আশ্বাস না দেখি তাহলে কর্মবিরতি পালন করবো।