জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রে আগুন, একে অপরকে দুষছে রাশিয়া-ইউক্রেন

গতকাল রোববার ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কুলিং টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করছে ইউক্রেন ও রাশিয়া।

সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্লান্টে আগুন লাগানোর পেছনে রাশিয়ান বাহিনী দায়ী। অন্যদিকে, জাপোরিজঝিয়ায় রুশ স্থাপিত গভর্নর বলেছেন, ইউক্রেনের গোলাগুলির কারণে এই প্লান্টে আগুন লেগেছে।

২০২২ সালে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর এক দিন পরই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন রুশ সেনারা।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কুলিং টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের কারণে প্রচুর পরিমাণে ধোঁয়া বের হলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বেড়ে যাওয়া বা পরমাণু সুরক্ষায় খারাপ প্রভাব পড়েছে, এমন কিছু শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে ইউক্রেন, রাশিয়া ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে মস্কোর নিয়োজিত কর্মকর্তা ভ্লাদিমির রোগোভ বলেন, টেলিগ্রামে আজ সোমবার দেওয়া একটি পোস্টে দেখা গেছে, কুলিং টাওয়ারে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

রোববার, জাপোরিঝিয়ায় রুশ নিয়োজিত গভর্নর ইয়েভজেনি বালিটস্কি জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কুলিং টাওয়ারে আগুন লেগেছে। এ সময় তিনি আগুনের কারণ হিসেবে ইউক্রেনীয় বাহিনীর গোলাগুলিকে দায়ী করেন।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলছেন, কিয়েভকে ব্ল্যাকমেইল" করার চেষ্টায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে আগুন দিয়েছে রাশিয়া।

জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ান সৈন্য এবং কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে এবং এপ্রিল থেকে ছয়টি চুল্লি বন্ধ রয়েছে।

তবে হামলার পরে এক বিবৃতিতে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কুলিং টাওয়ারে যাওয়ার অনুমতির জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এনারহোদার শহরে জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অবস্থিত। এটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ইউক্রেনের এক-চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ এই কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা হত।