শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলা সেই আ. লীগ নেতা কারাগারে

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবীরকে ১৩ বছর আগের একটি ঘটনায় চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১৪ আগস্ট) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজির করা হলে বিচারক মাহবুব আলম তাকে কারাগারে পাঠান।

এর আগে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল ঘটনা এড়াতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সকাল ৬টার দিকে জাহাঙ্গীর কবীরের নিজ বাসভবন থেকে ঢাকা ও বরগুনা সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আটক  করা হয়। পরে বরগুনা সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদারের দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা পৌর শহরের পুরান লঞ্চঘাটের পূর্ব পাশে একটি টিনশেড ঘরে হারুণ মটরস নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন বরগুনা সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদার। ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি সকাল এগারোটায় ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জাহাঙ্গীর কবিরের নেতৃত্বে ফোরকানসহ অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক গিয়ে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করার ভয়ভীতি দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে খুন জখমের হুমকি দিয়ে দোকান ঘর ছেড়ে দিতে বলা হয়। পরে প্রাণ ভয়ে দোকানঘর ছেড়ে দেন হারুন অর রশিদ হাওলাদার।

মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, জাহাঙ্গীর কবিরের নেতৃত্বে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে মালামাল লুট কওে নিয়ে গেছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। ১৩ বছর ধরে প্রাণ ভয়ে আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি। কোথাও আমার ন্যায্যবিচার পাইনি। আওয়ামী লীগ সরকার পতন হওয়ার পর আমি থানায় এসে মামলা দায়ের করেছি।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে আগত পুলিশের একটি বিশেষ দল ও বরগুনা সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে বুধবার ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর কবীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে হারুন অর রশিদ হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গত সোমবার (১২ আগস্ট) ভারতে অবস্থান করা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এই নেতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে শোনা যায় শেখ হাসিনা জাহাঙ্গীর কবীরকে বলছেন, আপনারা শৃঙ্খলা মেনে দলীয় কার্যক্রম চালাবেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে যথাযথভাবে পালন করবেন।

এ সময় মো. জাহাঙ্গীর কবীর শেখ হাসিনাকে বলেন, আপা আপনি মনোবল হারাবেন না। আপনি ঘাবড়ালে আমরা দুর্বল হয়ে যাই। আমরা শক্ত আছি।