নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনিসহ ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক আইনজীবী। থানা হেফাজতে নিয়ে মারধর ও টাকা দাবির প্রেক্ষিতে জেলা ও দায়রা জজ ফজলে এলাহী ভূঁইয়ার আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মিনারুল ইসলাম মিনার (৩৫)। আদালত আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন— সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান পাঠান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপু বড়ুয়া, মো. কামাল হোসেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আবু তালেব, কনস্টেবল মো. রাসেল ও থানার মুন্সি রুবেল বড়ুয়া।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তানজিনা আক্তার তানিয়া নামে ৭ বছরের এক শিশুকে মামলার এফআইআরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুধারাম মডেল থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনিকে শোকজ করেন বিজ্ঞ আদালত। এ নিয়ে ওসি রনি ওই আইনজীবীর উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। গত ১৯ জুলাই বিকেলে আমার মামা বিএনপি নেতা আবদুল করিম মুক্তাকে আটক করে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ। এ সংবাদ পেয়ে তাকে দেখতে গেলে ওসির নেতৃত্বে আসামিরা থানার একটি কক্ষে আটক করে মারধর করেন।
মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, খবর পেয়ে আইনজীবীর আত্মীয়-স্বজন থানা থেকে ছাড়াতে গেলে এসআইদের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন ওসি মীর জাহেদুল হক রনি ও পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান পাঠান। দাবীকৃত টাকা না পেয়ে পরদিন ২০ জুলাই মামলায় জড়িয়ে আদালতে চালান দেওয়া হয়। এ সময় রিমান্ডের আবেদন করার ভয় দেখায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. কামাল হোসেন। পরে তিনি ২০ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেন।
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বুধবার (১৪ আগস্ট) জেলা ও দায়রা জজ ফজলে এলাহী ভূঁয়ার আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আদালত অনুসন্ধান করে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন।
এ বিষয়ে জানতে সুধারাম মডেল থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনিকে ফোন দেয়া হলে রিসিভ করেন পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান পাঠান। তিনি বলেন, মামলাটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও মিথ্যা। আমাদের হয়রানি করার জন্য এটি করা হয়েছে।