ওএইচসিএইচআরের প্রতিবেদন

বিক্ষোভে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বিক্ষোভ ও বিক্ষোভের পর সংঘাত দমনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘অপ্রয়োজনীয়’ ও ‘মাত্রাতিরিক্ত’ বলপ্রয়োগ করেছে বলে প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ। 

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এবং সহিংসতার ঘটনার ক্ষেত্রে নির্বিচার বল প্রয়োগ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেডের পাশাপাশি পাখি শিকারে ব্যবহৃত অস্ত্র, বুলেটসহ নানা রকম প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন।

‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও অস্থিরতার প্রাথমিক বিশ্লেষণ’ ‍শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য বলা হয়েছে। গতকাল ১৬ আগস্ট এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে জুনের মাঝামাঝি বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বেকারত্বের উচ্চ হার এ আন্দোলনে প্রভাব ফেলে। এই আন্দোলনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহিংসতা আর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে অন্তত ৩২ শিশুসহ কয়েক শ মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি বলেছে, বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বিক্ষোভ আর বিক্ষোভের পর সংঘাত দমনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অপ্রয়োজনীয়’ ও ‘মাত্রাতিরিক্ত’ বলপ্রয়োগের গুরুতর ও বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেডের পাশাপাশি পাখি শিকারে ব্যবহৃত অস্ত্র, বুলেটসহ নানা রকম প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কিছু ব্যক্তির লাঠি, ইট বা অপ্রচলিত অস্ত্র ব্যবহারের বিপরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাবার বুলেট এবং পিলেট শটগান, হ্যান্ডগান, রাইফেলসহ আগ্নেয়াস্ত্রের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার এবং মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেছে।

গণমাধ্যম এবং আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ জুলাই থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে ৬০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আর ৫ থেকে ৬ আগস্ট প্রায় ২৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ওই সময়কাল থেকে পরবর্তীকালে প্রতিশোধমূলক হামলায় নিহতের সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। ৭ থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে বেশ কিছু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যাঁরা সহিংসতায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।