পরিবারের অভাব দূর করতে এসেছিলেন ঢাকায়। কিন্তু পরিবারের অভাব দূর করতে পারলেন না ফিরলেন লাশ হয়ে। বলছি শেরপুর জেলার শ্রীবদী উপজেলার গনির কথা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান গনি ।
মাত্র ছয় মাস আগে ঢাকায় আসেন তিনি। থাকতেন রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও এর নাখালপাড়ায়। জীবিকানির্বাহের জন্য প্রতিদিন রিকশা নিয়ে বের হতেন তিনি। প্রতিদিনের মতো ১৯ জুলাইও রিকশা নিয়ে বের হয়েছিলেন। সারাদিন রিকশা চালিয়ে সন্ধায় মহাখালীতে গ্যারেজে রিকশা জমা দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। কিন্তু আর বাসায় ফিরে যেতে পারেননি। রাস্তায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ চলছিল। সংঘর্ঘের মাঝে পড়ে যান গনি। এসময় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে ঢাকা মেডিকেলে মারা যান গনি।
গনি মিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৯ জুলাই সারাদিন রিকশা চালান গনি। সন্ধ্যায় মহাখালীর গ্যারেজে রিকশা জমা দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। ফেরার সময় রাস্তায় গুলিতে আহত হন তিনি। পরে পথচারীরা গুলিবিদ্ধ গনিকে দ্রুত পাশের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সে হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে মারা যান গনি। গ্রামের বাড়িতে মরদেহ নেওয়ার টাকাও ছিল না। পরে মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে মরদেহ গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসা হয়। গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয় মরদেহ।
নিহত গনির পরিবারে রয়েছে স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন বছরের এক মেয়ে। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে বিপাকে পড়েছে পরিবার। গনির স্ত্রী বলেন, ‘আমি আমার সন্তানদের নিয়ে এখন কীভাবে চলব। আমার স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় দুই লাখ টাকা ঋণ হয়েছিল। সেই ঋণই পরিশোধ করবো কীভাবে আর সন্তানদের মুখে খাবারই দিব কীভাবে।
বাবাকে হারিয়ে লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বড় ছেলে শহীদুলের। বলেন, ছোট ভাইয়ের লেখাপড়া আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। অভাবের তাড়নায় ১৪ বছরের ছোট ভাইকে মাত্র ছয় হাজার টাকা ওয়ার্কশপে কাজ করতে পাঠান বাবা। এখন আমার পড়াশোনাও বাদ দিতে হবে।’