ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের পর চট্টগ্রামের আটটি থানা ও আটটি ফাঁড়িতে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলা, ভাঙচুর চালিয়ে ৫০০ অস্ত্র ও ১২ হাজার গুলি লুট করে ছয়টি থানায় আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। এ সময় থানায় রাখা বিপুল পরিমাণ সরকারি গাড়ি, আলামতও লুট করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে থানা ফাঁকা করে পালিয়ে যান সব পুলিশ সদস্য।
নগরের থানাগুলোতে পুলিশ সদস্যরা সীমিত পরিসরে কাজে যোগ দিলেও নগরের অনেক থানা এখনো সেবা দেওয়ার পরিস্থিতিতে নেই। রয়েছে অবকাঠামো, যানবাহন ও অস্ত্র-গুলির সংকট। সেইসঙ্গে আছে পুলিশ সদস্যদের মানসিক ট্রমা। থানার বাইরে আপাতত কোনো অভিযানে যাচ্ছেন না তারা। কিছু কিছু জায়গায় টহলে গেলেও সঙ্গে পাহারায় থাকছেন সেনাসদস্যরা।
এ ছাড়া বেশ কিছু থানা ভবন পাহারা দিচ্ছেন সেনাসদস্যরা। গত ১০ আগস্ট থেকে নগরের সবকটি থানা সীমিত পরিসরে চালু হলেও যানবাহন, অস্ত্র ও গোলাবারুদের অভাবে পূর্ণাঙ্গভাবে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। এখনো নগরীর অনেক ফাঁড়ি ও পুলিশ বক্স পুলিশশূন্য। আর এই সুযোগে পেশাদার অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নগরের প্রবেশপথ সিটি গেট, শাহ আমানত সেতু, কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও অক্সিজেন এলাকায় পুলিশ চেকপোস্ট না থাকায় অবাধে ঢুকছে মাদক ও অস্ত্র।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করে গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মানসিক ট্রমার মধ্যে পুলিশ সদস্যদের দিন যাচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঘটে যাওয়া ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেনি পুলিশ। সরকার পরিবর্তনের পর বদলি, শাস্তি ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছেন অনেক পুলিশ কর্মকর্তা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরেও বিরাজ করছে একই অবস্থা। ফলে এই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে পেশাদার অপরাধীরা।’
তবে মাদকদব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) তানভীর মমতাজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাঠেঘাটে আগের মতোই কাজ করে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরে অবাধে মাদক ঢোকার এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। মাদকের তথ্য পেলেই আমরা প্রতিহত করছি।’