আনন্দ মিছিল থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ, ১০ দিন পর হাসপাতালে মৃত্যু

শেখ হাসিনার পদত্যাগের দিন কুমিল্লায় আনন্দ মিছিলে গুলিবিদ্ধ আবুল কালাম আজাদ নামে এক আইনজীবী ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর প্রাইভেট একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ৫ আগস্ট তিনি নগরীর মোগলটুলী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন।

নিহত আবুল কালাম আজাদ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কুমিল্লা শাখার যুগ্ম সম্পাদক এবং কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন। শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকালে পারিবারিক কবরস্থানে নিহতের লাশ দাফন করা হয়।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর সারাদেশের মতো কুমিল্লার সর্বস্তরের মানুষও আনন্দ উদযাপন করতে রাস্তায় নেমে আসেন। আনন্দ মিছিল শেষ করে সবার সঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন আইনজীবী কাইমুল হক রিংকু, তার ছেলে শাফিউল হক আলভী, আরফানুল হক আবরিন ও কুমিল্লা বারের সদস্য আবুল কালাম আজাদ। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ রায়হান আহমেদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা গুলি এবং ককটেল ছুঁড়ে।

এতে আবুল কালাম আজাদ কোমরে গুলিবিদ্ধ এবং আইনজীবী কাইমুল হক রিংকু ও তার দুই ছেলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে আবুল কালামকে রাজধানীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার বিকালে মারা যান তিনি।

এ বিষয়ে আইনজীবী কাইমুল হক বলেন, আদালতে সহিংসতা থামিয়ে ফেরার পথে বিনা উসকানিতে কাউন্সিলর রায়হানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ এবং ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন আমাদের সহকর্মী কালাম। এ সময় আমরা অনেকেই আহত হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কাউন্সিলর রায়হান আহমেদকে প্রধান করে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।