‘তিনটা বছর ভালো মাছ পড়ে না, এখন সাগরেও তেমন ইলিশ নাই’

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা না পেয়ে হতাশ জেলেরা। ইলিশের ভরা মৌসুমেও উপকূলীয় এলাকা কুয়াকাটার জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না রূপালি ইলিশ। একদমই ইলিশশূন্য জেলেরা।

একদিকে ডিজেল ও মুদি মালামালের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে ট্রলার সাগরে গিয়ে মাছ ছাড়াই ফিরে আসছে। এদিকে আড়তদারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা দাদন নিয়েছেন। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় সে টাকা শোধ করবেন কীভাবে, তা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কপালে। এমন চলতে থাকলে পেশা বদলে ফেলতে পারেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হতাশায় ভুগছেন উপজেলার ১৮ হাজার ৩০৫ জন নিবন্ধিত জেলে। একদিকে ঋণ সংকট, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার পর ইলিশ না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে প্রায় ৩৭ শতাংশ জেলে। শুধু জীবিকার তাগিদেই নয় প্রতি মুহুর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ শিকার করে অর্থনীতির চাকা সচল করছেন পেশাদার জেলেরা। জীবনযুদ্ধে হার না মানা এসব মানুষ মাছ ধরার জন্য ছুটে যায় গভীর সমুদ্রসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে। এ সময় উত্তাল সাগরে ট্রলার ডুবে গেলে কারও কারও খোঁজ স্বজনরা পেলেও অনেকেরই সলিল সমাধি হয়েছে সাগরে।

উপজেলার আলীপুর, মহিপুর, লালুয়া, কুয়াকাটা ধুলাসার, ধানখানখালী, বাবলাতলার ঢোস, নিজামপুর, গঙ্গামতি, জেলে পল্লি ঘুরে জেলেদের সঙ্গে কথা বললে তারা তাদের দুর্দশার কথা জানায়।

গঙ্গামতির গ্রামে জেলে নবী হোসেন বলেন, ‘তিনটা বছর হইছে তেমন ভালো মাছ পড়ে না। মোগো মেরুদণ্ড ভাইঙা ফালাইছে। আবার ২২ দিনের ইলিশের অবরোধ নিষেধাজ্ঞা, আট মাসের জাটকা ধরা অবরোধ। এখন গাঙে, সাগরেও তেমন ইলিশ নাই।’

লালুয়ার চারিপাড়া গ্রামে জেলে আ. করিম বলেন, এই এলাকার ৯০ শতাংশ মানুষ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন তিন বেলা খাবার যোগার করতে কষ্ট হচ্ছে।

এফবি মায়ের দোয়ার মাঝি মো. কালাম হোসেন জানান, দুই দিন আগে ১৫ জন জেলে নিয়ে সাগরে মাছ শিকারের জন্য যান। কিন্তু সাগরে উত্তাল ঢেউ থাকার কারণে শিববাড়ীয়া নদীর নোঙর করে আছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে আশা করা হচ্ছিল জেলেরা প্রচুর ইলিশ নিয়ে ফিরবেন। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ার কারণে তাদের ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে ট্রলারের মালিক ও জেলেদের। আবহাওয়া ভালো হলে জেলেরা সমুদ্রে আশানুরূপ মাছ পেলে অর্থনৈতিক দুর্দশা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।