ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম চড়া 

ইলিশের ভরা মৌসুমেও কাঙ্খিত মাছের দেখা পাচ্ছে না জেলেরা ফলে ইলিশের দাম ও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। জেলেরা মাছ ধরতে না পারায় দেশের অন্যতম বড় ইলিশের পাইকারি বাজার চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছ ঘাটে ইলিশের সরবরাহ কম।

ঢাকা থেকে চাঁদপুরে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা আনিসুর রহমান বলেন, ‘ঢাকায় সব সময় তাজা ইলিশ পাওয়া যায় না, তাই এখানে এসেছি কম দামে তাজা ইলিশ কিনতে। কিন্তু যেই দাম চাচ্ছে তাতে মনে হয় ঢাকার মতই দাম। এতো দাম দিয়ে কোন অবস্থাতেই সাধারণ মানুষের ইলিশ কিনে খাওয়ার উপায় নেই।’

মাছ ব্যাবসায়ীরা জানান, ঘাটে যেই পরিমাণে মাছ আসে তার তুলনায় ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে এর কয়েক গুণ বেশি। তাই মাছের দাম অনেক বেশি। সামনে ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে। নদীতে জেলেরা মাছ না পাওয়ায় আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

জেলে সুরুজ মিয়া বলেন, ‘সারা বছর নদীতে খুব একটা মাছ না পেলেও বর্ষার মৌসুমে ভালো মাছ পাওয়ার আশায় থাকি। কিন্তু এখনো তেমন একটা মাছ পাচ্ছি না।  এতে করে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

বড় স্টেশন মাছ ঘাটের ব্যবসায়ী নবির হোসেন বলেন, ‘মাছের দাম বেশি থাকায় অনেকই দরদাম করে না কিনে চলে যায়। আমরা মৌসুমে মাছ বিক্রি করে কিছু ব্যবসার আশায় থাকি। কিন্তু মাছ কম থাকায় তা হচ্ছে না। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৬০০-১৭৫০ টাকায়, ৭শ-৯শ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ১৩০০-১৫০০ টাকা এবং ছোট সাইজের ইলিশ ৯শ-১হাজার টাকা দরে।’ 

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত বলেন,‘ চাঁদপুর থেকে সারা দেশে ইলিশ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে খুব একটা মাছ আসছে না ঘাটে। ফলে আমরা যারা কোটি কোটি টাকা ব্যবসায় খাটিয়েছি তারা লোকসানে পড়েছি। গেল ৪-৫বছর আগেও এই সময় ৩-৪ হাজার মণ ইলিশ উঠত প্রতিদিন, সেখানে বর্তমানে মাছ আসে‌ ৪শ-৫শ মণ। সামনে মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি না পেলে দাম কমার সম্ভাবনা কম।’