ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে শেখ রাসেল স্পোর্টিং ক্লাবের জার্সিতে সবশেষ গোলবার সামলেছিলেন জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক ও দেশের ফুটবলের পরিচিত মুখ আশরাফুল ইসলাম রানা। তবে এবারের বিপিএলে তাকে খেলতে দেখা যাবে কি না সেটি নিশ্চিত নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে কিছু না জানালেও অনানুষ্ঠানিকভাবে এবারের প্রিমিয়ার লিগে দল গড়া থেকে সরে আসতে চাচ্ছে অন্তত চার-পাঁচটি ক্লাব। লিগগুলোই যাদের একমাত্র আয়ের অবলম্বন সেই পেশাদার ফুটবলাররা এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি সামলানোর ৭ দফা দাবি নিয়ে গতকাল ফুটবল ফেডারেশনে আসেন এখনকার পেশাদার ফুটবলাররা।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতনের জেরে দেশের ক্রীড়াঙ্গন নানামুখী সংকটের মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি শঙ্কা তৈরি হয়েছে পেশাদার লিগগুলোর নিয়মিত মাঠে গড়ানো নিয়ে। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে ফুটবল ক্লাবগুলোর ওপরেও। দীর্ঘ ১৫ বছর এসব ক্লাবের ক্ষমতায় ছিলেন বিগত সরকারঘনিষ্ঠ ক্রীড়া সংগঠকরা। ৫ আগস্টের আগে-পরে আবাহনী লিমিটেড, শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব, ফর্টিজ ফুটবল ক্লাব, নবাগত ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবসহ বেশ কটি ক্লাবে ঘটেছে দুষ্কৃতকারীদের হামলার ঘটনা। পালাবদলে অনেক ক্লাবই এখন অনিশ্চয়তার দোলায় দুলছে। বন্ধ হয়ে গেছে অনেকের অর্থের উৎস। দল গঠন, পরিচালনার বিশাল ব্যয় কী করে চলবে, সেটা ভেবেই দিশেহারা ক্লাব কর্তারা। পেশাদার ফুটবলারদের ভাষ্যমতে শেখ জামাল, শেখ রাসেল, চট্টগ্রাম আবাহনী এবং ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবার দল গঠন করবে না বলে নিজেদের খেলোয়াড়দের জানিয়ে দিয়েছে। অবশ্য ক্লাবগুলোর পক্ষ থেকে বাফুফেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই বাফুফের হস্তক্ষেপ চাচ্ছেন ‘প্রফেশনাল ফুটবল খেলোয়াড়বৃন্দ’ ব্যানারে এক হওয়া পেশাদার ফুটবলাররা। তাদের দাবি করা ৭টি দফা হলো দলবদল পেছানো নিশ্চিত করা, প্রতিটি দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, দায়সারা লিগ না চালানো, অংশ না নেওয়া দলগুলোয় নিশ্চিত করা খেলোয়াড়দের দায়ভার কে নেবে, এ মৌসুমে বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়া লিগ চালানো, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা এবং ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে সভার ব্যবস্থা করা। বাফুফের সামনে মানববন্ধনের পর সভাপতি বরাবর স্মারকলিপি তুলে দেন আশরাফুল ইসলাম, রায়হান হাসান, শহিদুল আলম, রেজাউল করিম, রহমত মিয়া, রিয়াদুল হাসান, ইমন বাবু, তৌহিদুল আলমসহ প্রিমিয়ার লিগের প্রায় ৪০-৪৫ জন ফুটবলার।
ফুটবল মাঠে রক্ষণ সামলান রায়হান হাসান। এবার নিজেদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে রক্ষা করতে পেশাদার লিগ কমিটির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন চট্টগ্রাম আবাহনীর এ ফুটবলার, ‘আমরা প্রায় ১৭০ জন পেশাদার ফুটবলার একত্র হয়েছি। ক্লাবগুলো দল না গড়লে আমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হব। এ সমস্যা সমাধানের জন্য লিগ কমিটির কার্যকর পদক্ষেপ চাই আমরা।’ এ সময় আশরাফুল বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনে স্যাক্রিফাইস করে, পারিশ্রমিক কম নিয়ে খেলতে রাজি আছি। তবুও খেলা হোক। মাঠে ফুটবল থাকুক। বাফুফে যেন ক্লাবগুলোকে মাঠে আনতে চেষ্টা করে।’
প্রথমে না বলে দিলেও দ্বিতীয় দফায় দলবদলের জন্য তিন দিন সময় বাড়িয়েছে ফিফা। তাই ১৯ এর বদলে ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় পাচ্ছে বাফুফে। এ তথ্য জানানোর পাশাপাশি ফুটবলারদের দাবি প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার বলেন, ‘বাফুফেও চায় সবগুলো ক্লাব খেলুক। স্পনসর এবং ক্লাবের বিষয়ে লিগ কমিটি দ্রুতই বৈঠকে বসবে। আমি ক্রীড়া উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে এরই মধ্যে যোগাযোগ করে ফুটবলারদের সঙ্গে আগামীকালের মধ্যে সভা করার চেষ্টা করছি।’ গত বৃহস্পতিবার পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান এ বিষয়ে বলেছিলেন, ‘ক্লাবগুলো বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংগঠনের অনুদানে চলে। এ মুহূর্তে কিছু ক্লাব বেকায়দা অবস্থায় থাকলেও, অনেক পরিচ্ছন্ন ক্রীড়া সংগঠক ক্লাবগুলোর হাল ধরতে আগ্রহী। সাময়িক অসুবিধা হলেও আমার বিশ্বাস ক্লাবগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’
আজ দুপুরে সাবেক ফুটবলার এবং ফুটবল সংগঠনগুলোকে নিয়ে বাফুফেতে আসবেন প্রফেশনাল ফুটবল খেলোয়াড়রা।
এদিন ‘সাবেক/বর্তমান বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল খেলোয়াড়-কর্মকর্তাবৃন্দ’ ব্যানারে বাফুফের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বর্তমান ও সাবেক নারী খেলোয়াড়রা। বাফুফে ভবনের চারতলায় নারী ফুটবলারদের ক্যাম্পকে বন্দিশালার সঙ্গে তুলনা করার পাশাপাশি চুরির অভিযোগ এনে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন এবং নারী উইং-এর প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণের পদত্যাগ দাবি করা হয়।