স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. টিটো মিঞা স্বেচ্ছায় অবসরে যেতে চান। এ জন্য তিনি আজ সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন পত্র জমা দিয়েছেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার সরকারি চাকরির বয়স শেষ হবে।
সোমবার দুপুরের পর থেকেই স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির পদত্যাগের কথা শোনা যায়। এর আগে সকালে এই কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিনসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পাঁচ কর্মকর্তাকে আওয়ামী লীগপন্থি দাবি করে তাদের অব্যাহতি চান সাধারণ চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তারা।
এ ব্যাপারে ডা. টিটো মিঞা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি পদত্যাগ করিনি। স্বেচ্ছা অবসরের জন্য আবেদন করেছি। আমার চাকরি মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু আমি আগেই অবসরে যেতে চাই। সে জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বরাবর আবেদন করেছি, যেন বিবেচনা করে অবসরটা একটু আগেই দেন। দুপুরে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আবেদন জমা দিয়ে এসেছি।
আওয়ামী লীগপন্থি সরকারি চিকিৎসক কর্মকর্তাদের অব্যাহতির দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই আন্দোলন করছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও সাধারণ চিকিৎসকরা। তাদের দাবির মুখে ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। নতুন ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন। কিন্তু তাকেও আওয়ামী লীগপন্থি দাবি করে তারও অব্যাহতি চাইছেন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এখন মন্ত্রণালয় তার সমস্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করবে। সরকার চাইলে প্রক্রিয়াটা সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত অবসর দিতে পারে, অথবা ওএসডি করে রাখতে পারে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহারিচালক ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর নিয়োগ পান অধ্যাপক ডা. মো. টিটো মিঞা। পরে গ্রেড-১ এ পদোন্নতি পেয়ে তিনি মহাপরিচালক হন। সর্বশেষ তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুগদা সরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।