পাকিস্তানের চার পেসারের ‘উত্তর তৈরি’ বাংলাদেশের

রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের উইকেট যে পেসবান্ধব হতে যাচ্ছে, তার বড় প্রমাণ পাকিস্তানের প্রথম টেস্টের একাদশে কোনো স্পিনার না থাকা। চার পেসার নিয়ে খেলতে যাচ্ছে তারা। তবে বাংলাদেশ যে ১৬ জনের স্কোয়াড নিয়ে গেছে, তাতে স্পিনারের সংখ্যা চার। গতকাল সোমবার রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে জানিয়েছেন, মেধার জোরেই স্পিনাররা দলে এসেছেন।

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটের বাইরেও উঠে আসে নানা প্রসঙ্গ। বাংলাদেশে স্বৈরাচার উৎখাতে ছাত্রদের প্রাণ বিসর্জন থেকে শুরু করে নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পুনর্গঠন এবং তারই প্রভাবে হাথুরুসিংহের চাকরি থাকা না থাকাসহ অনেক কিছুই উঠে আসে কথার পিঠে কথায়। তবে এই শ্রীলঙ্কান নিজের বেশিরভাগ উত্তরই সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছেন মাঠের খেলাতেই। হাথুরুসিংহে উইকেট নিয়ে তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ‘পিন্ডির দল ফাস্ট বোলিং আর ব্যাটিংয়ের জন্যই বেশি উপযোগী মনে হচ্ছে। তারাও (পাকিস্তান) একাদশে কোনো স্পিনার রাখেনি, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের ফাস্ট বোলাররাও ভালো করছে। কন্ডিশনের সহায়তা পেলে তারা ভালো করবে। সাকিব আল হাসান ও মিরাজ, ওরা দুজন বিশ^মানের অলরাউন্ডার। প্রতিপক্ষ আমাদের নিয়ে যে পরিকল্পনাই সাজাক, আমাদের সব উত্তরই তৈরি আছে।’ হাথুরুসিংহে আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি পাকিস্তানের উইকেট (বাংলাদেশের চেয়ে) ভিন্ন রকম হবে। আমরা স্পিনারদের তাদের মেধার জোরেই দলেই নিয়েছি, কন্ডিশন দেখে নিইনি।’

বেশ অনেক দিন ধরেই ব্যাটিংটা ভালো হচ্ছে না বাংলাদেশের। এর জন্য একাধিক কারণ দায়ী, বললেন হাথুরুসিংহে, ‘বাংলাদেশের ব্যাটিংটা অনেক দিন ধরেই ভালো হচ্ছে না, আর এর কারণ মাত্র একটা নয়। দেশে আমরা এমন উইকেটে খেলি, যেখানে ম্যাচে একটা ফল আনার প্রচেষ্টা থাকে। তাই কখনো কখনো এসব পিচে ২৫০ রানই জেতার মতো রান। তাই এটা খুবই স্বাভাবিক যে, এ রকম উইকেটে খেলা হলে ব্যাটসম্যানদের সময়টা খারাপ যাবে। আমি আশা করব পাকিস্তানের উইকেট সাধারণভাবে ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক হবে। ব্যাট এবং বলের মধ্যে ভালো একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আশা করছি আমরা ভালো একটা ফল করতে পারব।’

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য অনুশীলন করাতে পারেননি হাথুরুসিংহে, আগেভাগেই সদলবলে চলে আসতে হয়েছে পাকিস্তানে। এই সুবিধা দেওয়ার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশের কোচ, ‘আমরা পিসিবিকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের আসার আগে বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে আতিথ্য দেওয়ার জন্য। তারা মাত্র ১৫ মিনিট দূরে আছে। কয়েকজন ফাস্ট বোলার সেখানে খেলার মধ্যে আছে, টেস্ট স্কোয়াডে পাঁচজন আছে। লাহোরের অনুশীলন সুযোগ-সুবিধা ছিল দারুণ। ওখানে তিন দিন খুব ভালোভাবে অনুশীলন করতে পেরেছি। ছয়জন ক্রিকেটার ‘এ’ দলের হয়ে আগেই এসেছে। প্রস্তুতির দিক থেকে আমরা খুবই সন্তুষ্ট।’

পাকিস্তান সিরিজ বা পরে আসন্ন আরও কিছু টেস্টের জন্য দেশে এবং এইচপি ও এ দলের হয়ে বিদেশে খেলে লাল বলের প্রস্তুতি নিয়েছেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। ব্যতিক্রম শুধু সাকিব, তিনি ব্যস্ত ছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি খেলতে। চোখের সমস্যায় তার ব্যাটিংটাও ইদানীং ধার হারিয়েছে। সাকিবকে নিয়ে হাথুরুসিংহের অভিমত, ‘সে কিন্তু ব্যাটিং ভালোই করছে, তাকে আগের চেয়ে ফিট মনে হচ্ছে। সে চোখ দেখিয়েছে, সে বলেছে এতে করে তার অসুবিধা কিছুটা কমেছে।’

পাকিস্তান একাদশে কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিন বোলার রাখেনি। হাথুরুসিংহে জানালেন, বাংলাদেশও জবাবটা দিতে পারে একই ভাষায়, ‘বাংলাদেশের ফাস্ট বোলাররা কিন্তু বিশ্বকাপে (টি-টোয়েন্টি) ভালো করেছে, যেখানে তারা সহায়ক কন্ডিশন পেয়েছিল। এই উন্নতিটা এক দিনে হয়নি, দুই বছর ধরে এই প্রক্রিয়াটা চলমান ছিল। ওরা সবাই মিলে ২০টা টেস্টও খেলেনি। পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের তুলনায় তারা খুবই তরুণ একটা বোলিং আক্রমণ। তারা কেমন করে, সেটা দেখার জন্য আমি খুবই রোমাঞ্চিত।’

পাকিস্তান একাদশ : আবদুল্লাহ শফিক, সাঈম আইয়ুব, শান মাসুদ (অধিনায়ক), বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সৌদ শাকিল, সালমান আগা, শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, খুররাম শেহজাদ ও মোহাম্মদ আলি।