সংঘর্ষ দেখে পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ, লুটিয়ে পড়েন সড়কে 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সৃষ্ট সহিংসতায় গত ২০ জুলাই ঢাকার সাভারে পুলিশের গুলিতে নিহত হন শামীম মিয়া (৫৮)। পুলিশ ও ছাত্রদের সংঘর্ষ দেখে পালাতে চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ শামীমের গলায়, মুখে এবং পেটে কয়েকটি গুলি লাগলে সঙ্গে সঙ্গে সড়কে লুটিয়ে পড়েন তিনি। 

শামীম হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের শিমুলঘর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ আগে বাড়ি থেকে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সাভার গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে আরো কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার দিন বিকাল ৪টার সময় বাসা থেকে বের হয়েই পুলিশের অ্যাকশনের মুখে পড়েন শামীমসহ কয়েকজন। এসময় অন্যদের সঙ্গে তিনিও পালাতে চেষ্টা করেন। অন্যরা দৌঁড়ে পালাতে সক্ষম হলেও শামীমের গলায়, মুখে এবং পেটে বেশ কয়েকটি গুলি লাগে। হাসপাতালে নেওয়ার আইে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন শামীম। 

পরে রাতে একটি মিনি ট্রাক ভাড়া করে শামীমের মরদেহ বাড়ি নিয়ে যান স্বজনরা। ২১ জুলাই বেলা ১১টায় জানাজা শেষে দাফন করা হয় শামীমের মরদেহ। 

জানা যায়, হতদরিদ্র শামীম দীর্ঘদিন পুরান ঢাকায় ছোটখাটো ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। গত বছর তিনি ঢাকা থেকে সাভারে গিয়ে শরবত বানিয়ে বিক্রি করতে শুরু করেন। 

শোকে মুহ্যমান শামীম মিয়ার স্ত্রী সহায়-সম্পদহীন পিয়ারা বেগম কোনো কথা বলতে পারছিলেন না। কিভাবে তার ভরণপোষণ হবে তা তিনি জানেন না। অস্ফুটস্বরে শুধু বলেন, ‘আজ পর্যন্ত কোনো সহযোগীতা করে নাই কেউ। এ পর্যন্ত কেউ খোঁজ-খবর নেয় নাই। এই দুইন্যাত (দুনিয়ায়) আমার কেউ নাই।’ 

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একেএম ফয়সাল বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাত্র আন্দোলনের নিহতদের তালিকা করবে বলে জেনেছি। ওই তালিকায় শামীমের নাম থাকলে তার পরিবার সরকারি তরফে অবশ্যই সহযোগিতা পাবে।’