প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইউক্রেন যাচ্ছেন মোদি

৩০ বছরে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইউক্রেন যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আমন্ত্রণে আগামী ২৩ আগস্ট ইউক্রেন যাচ্ছেন তিনি। সে দেশের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে বৈঠক করবেন তিনি। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে এই প্রথম ইউক্রেন সফরে যাচ্ছেন মোদী।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সে দেশের গণমাধ্যম জানিয়েছে, সফরে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে আগ্রহী নয় ভারত। তবে শান্তি প্রক্রিয়ায় মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে বার্তা সমন্বয়ের কাজ নয়াদিল্লি করতে পারে বলে সোমবার জানিয়েছে কেন্দ্র।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম) তন্ময় লাল বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আমন্ত্রণে আগামী ২৩ আগস্ট ইউক্রেনে সরকারি সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এটি একটি ঐতিহাসিক সফর হতে চলেছে। কারণ, ৩০ বছরের বেশি সময় আগে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেন সফরে যাচ্ছেন। দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে উচ্চ-স্তরীয় আলোচনা হবে এই সফরে। 

জেলেনস্কির চিফ অফ স্টাফ অ্যান্ড্রি ইয়রমাক সম্প্রতি বলেছিলেন, মোদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। কিন্তু ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি, মধ্যস্থতায় কোনো ভূমিকা নেবেন না মোদি। গত জুন মাসে জি৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ইতালি গিয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে পার্শ্ববৈঠক করেছিলেন তিনি। তার আগে জাপানেও দুজনের একান্তে আলোচনা হয়েছিল।

তা ছাড়া যুদ্ধ শুরুর পরে একাধিক বার ফোনে জেলেনস্কি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মোদির কথা হয়েছে। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে উজবেকিস্তানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর বৈঠকের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। 

এর আগে গত মাসে দুদিনের সফরে রাশিয়ায় যান নরেন্দ্র মোদি। তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সেবার প্রথম রাশিয়ায় যান মোদি। আরও গুরুত্বপূর্ণ এই সফর কারণ ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর এটাই মোদির প্রথম রাশিয়া সফর ছিল। ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে বারবার ভারত গুরুত্ব দিয়েছে কূটনৈতিক আলোচনার উপর।